ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ ৫ জনের প্রাণহানি

ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ ৫ জনের প্রাণহানি

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন স্থানে গত গতকাল শনিবার থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত পৃথক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে পানিতে ডুবে শিশু, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, কৃষকসহ তিনজন এবং অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

নিহতদের পারিবারিক ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের দক্ষিণ নওপাড়া গ্রামে মোজাহারুল ইসলামের ছেলে আড়াই বছরের শিশু মারুফ হোসেন গতকাল শনিবার নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন বাড়ির পাশের একটি পুকুরে তাকে ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অনুরূপ আরেক দুর্ঘটনায় রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় এলাকায় পুকুরে গোসল করতে নেমে সোনিয়া খাতুন (১০) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে খাদিজাতুল কোবরা মহিলা মাদ্রাসার পাশে একটি পুকুরে গোসল করতে গিয়ে সে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত সোনিয়া হরিপুর উপজেলার দামোল গ্রামের সোহেল রানার মেয়ে।

এদিকে সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের কিসমত তেওয়ারীগাঁও ঢেপা নদী পার হতে গিয়ে স্রোতের তোড়ে ডুবে কলেস চন্দ্র রায়(৪১) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়। গতকাল শনিবার রাতে ক্ষেতের কাজ শেষে নদী পার হওয়ার সময় তিনি নিখোঁজ হন। রোববার ভোরে নদীর ঘাটে তার লাশ ভেসে উঠলে স্বজনেরা তা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। কলেস ওই গ্রামের বুধারু বর্মনের ছেলে।

অন্য দুটি দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রুহিয়া উপজেলার মাধবপুর গ্রামে ঘরের টিনের বেড়া সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন রঞ্জনা রাণী (৩৫) নামের এক নারী। গতকাল শনিবার রাতে ঘরের কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতায়িত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত রঞ্জনা ওই গ্রামের ইন্দ্রনাথ রায়ের স্ত্রী।

অন্যদিকে সদর উপজেলার রায়পুর আশ্রমপাড়া গ্রামে নির্মাণাধীন রান্নাঘরের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রী মতি বালা (৪২) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে রান্নাঘরের চুলার মাটি সরানোর সময় পাশে থাকা পানির পাম্পের লিকেজ তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা মেইন সুইচ বন্ধ করে তাকে উদ্ধার করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের সুরেন বর্মনের স্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় লাশ দাফন ও সৎকারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার বিষয়েই নিজ নিজ থানায় পৃথক অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/176002