শ্রীনগরে ডাকাতির ১১ হাজার ৭৪৪ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার, গ্রেফতার ২
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ডাকাতির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লুণ্ঠিত ১১ হাজার ৭৪৪ লিটার সয়াবিন তেলসহ একটি কাভার্ডভ্যান ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ
আজ শনিবার (১১ জুলাই) বেলা ১টার দিকে মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
গ্রেফতার দুই আসামি হলেন, রাঙ্গামাটি জেলার মুর্শিদাবাদ এলাকার মৃত কুদরত আলীর ছেলে আ. গনি মিয়া (২৮) ও ঢাকার কদমতলী মুরাদপুর হাজি লাল মিয়া রোড এলাকার বাসিন্দা রাজন ব্যাপারীর ছেলে আমি রহমান (২৮)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৯ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাট থেকে যশোর ডিপোর উদ্দেশে রওনা হওয়া ৬৬৫ কার্টন (১১ হাজার ৯৭০ লিটার) সয়াবিন তেল বোঝাই একটি কাভার্ডভ্যান মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের উমপাড়া ওভারব্রিজ এলাকার ঢাকা-মাওয়া সার্ভিস রোডে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ৭ থেকে ৮ সদস্যের একটি ডাকাতদল সেটির গতিরোধ করে।
এ সময় ডাকাতরা কাভার্ডভ্যানের চালক মো. আকিব হাসান জয় ও তাঁর সহকারী মো. নাহিদ হাসানকে জিম্মি করে নিজেদের পিকআপে তুলে নেয়।
পরে তাদের হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে কেয়টখালী এলাকায় ঢাকা-ভাঙা রেললাইন ও ঢাকা-মাওয়া সার্ভিস রোডের মধ্যবর্তী স্থানে ফেলে রেখে সয়াবিন তেল বোঝাই কাভার্ডভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আফছার উদ্দিন শ্রীনগর থানায় মামলা দায়ের করলে, গতকাল ১০ জুলাই শ্রীনগর থানায় পেনাল কোডের ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় মামলা নং-১১ রুজু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও শ্রীনগর থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কান্দাপাড়া জামে মসজিদ এলাকায় কালিয়াকৈর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে আঃ গনি মিয়া ও অভি রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে তল্লাশি চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, লুণ্ঠিত একটি কাভার্ডভ্যান এবং ৯ কার্টন সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়।
পরে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জানায়, লুণ্ঠিত অধিকাংশ তেল বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বেলঘড়িয়া বাজারে ভাড়া নেওয়া একটি গোডাউনে রাখা হয়েছে।
পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ৫৮৫ কার্টন সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইমরান হোসেন (৩২) নামে এক ব্যক্তির বাড়ির নিচতলার গোডাউনে অভিযান চালিয়ে আরও ৫৮ কার্টন ৮ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়।
তিনি আরো জানান, উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৬৫২ কার্টন বা ১১ হাজার ৭৪৪ লিটার সয়াবিন তেল, যা লুণ্ঠিত মালামালের প্রায় পুরোটাই। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত একটি কাভার্ডভ্যান ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ।
মো. মেনহাজুল আলম বলেন, ডাকাতির ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। ডাকাত দলের পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।