জামিনে বেরিয়ে নিজের পরিবারের সদস্যসহ ছয়জনকে হত্যা

জামিনে বেরিয়ে নিজের পরিবারের সদস্যসহ ছয়জনকে হত্যা

আন্তার্জাতিক ডেস্ক : ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাঙ্গারেডি জেলায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানসহ তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী এক কিশোরী এবং তার মা ও নানিকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ৩৫ বছর বয়সী রাজকুমার শুক্রবার দিবাগত রাতে এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটায়। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজকুমার প্রথমে শাবাদ এলাকায় নিজের বাড়িতে হামলা চালায়। সেখানে তার ৩০ বছর বয়সী স্ত্রী পার্বতী সারিতা এবং দুই ছেলেÑযাদের একজনের বয়স চার বছর এবং অন্যজনের বয়স মাত্র ১৮ মাসÑতাদের হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের পর রাজকুমার সেখান থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামে যায়। সেখানে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী, তার মা এবং নানিকে হত্যা করে বলে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটানোর পর রাজকুমার নিজেই তার বাবাকে ফোনকলে অপরাধের কথা স্বীকার করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ফিউচার সিটির পুলিশ কমিশনার তরুণ জোশি সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি রাতে দুটি ভিন্ন স্থানে এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছে। খুনের পর সে তার বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছি। আশা করছি দ্রুতই তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরী গত ১৬ মে রাজকুমারের বিরুদ্ধে ‘প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস’ (পকসো) আইনের অধীনে একটি মামলা করেছিল। সেই মামলায় গ্রেপ্তারের পর কিছুদিন কারাগারে ছিল রাজকুমার। তবে হত্যাকাণ্ডের আনুমানিক এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন আগে সে আদালত থেকে জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরে আসে।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/175785