শিক্ষার্থীদের ছবি-ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিলো তুরস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে স্কুলে তোলা ছবি, ভিডিও এবং ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তুরস্কের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে আগে প্রকাশিত এ ধরনের সব কনটেন্ট দ্রুত ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকার বলছে, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্লাসরুমের ভিডিও ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া শিক্ষক-ইনফ্লুয়েন্সারদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তুরস্কের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় প্রণীত ১০ দফার নির্দেশিকা গত ৯ জুলাই ২০২৬ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো স্কুল তাদের ওয়েবসাইট, অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বা অন্য কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে পারবে না।
নিষিদ্ধ তথ্যের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের নাম, শ্রেণির তালিকা, স্টুডেন্ট আইডি, জাতীয় পরিচয় নম্বর, পরীক্ষার ফলাফল, উপস্থিতির তথ্য এবং অন্যান্য শিক্ষাসংক্রান্ত রেকর্ড। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা স্কুলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছবি ও ভিডিও প্রকাশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্কুলগুলোকে পূর্বে প্রকাশিত এসব কনটেন্ট পর্যালোচনা করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকা সব ছবি ও ভিডিও অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে শিক্ষামূলক প্রয়োজনে কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের প্রয়োজন হলে আগে থেকেই এর উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি কোথায় প্রকাশ করা হবে, কতদিন সংরক্ষণ করা হবে এবং কারা তা দেখতে পারবেন—এসব বিষয়ও লিখিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
গত কয়েক বছরে তুরস্কের কিছু শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের বিভিন্ন মুহূর্ত ধারণ করে শিক্ষার্থীদের মুখমণ্ডলসহ ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করতেন। এসব ভিডিও বিপুলসংখ্যক দর্শক পেলেও বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা চলছিল।
শিক্ষাবিদ ও শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, শিশুদের অনলাইন কনটেন্ট তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তাদের মতে, এ ধরনের চর্চা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। শিশুদের সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে তুরস্কের এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/175763