ভারী বৃষ্টিতে আরও পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা

ভারী বৃষ্টিতে আরও পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা

টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরও কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরসহ বিভিন্ন জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এর মধ্যে কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরীসহ কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে পারে। ফলে এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতিরও ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা এবং ভুগাই-কংস নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। কোথাও কোথাও এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

এ ছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার পাশাপাশি সুরমা নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকাতেও নতুন করে পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরে তিস্তা নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর ফলে এসব জেলার নদী-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/175759