বগুড়ার শেরপুরে বেরিকেড দিয়ে ডাকাতি ট্রাকে মিলল ৫টি মৃত গরু, গ্রেফতার-৩
স্টাফ রিপোর্টার/শেরপুর প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বেরিকেড দিয়ে চালক ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে গরু ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক, পাঁচটি মৃত ও দুটি জীবিত গরু উদ্ধার করা হয়।
আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও শেরপুর থানা পুলিশের যৌথ দল টাঙ্গাইল এবং সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম পাড় এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রায়পুর গ্রামের মৃত আব্দুল করিম সরকারের ছেলে মো. আব্দুস সালাম সরকার (৩৫) (বর্তমানে সাভারের ইসলামনগর বাজার এলাকার বাসিন্দা), মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা গ্রামের মো. আলীর ছেলে মো. বুলু মিয়া (২৮) (বর্তমানে আশুলিয়ার ডেন্ডাবার নিরিবিলি এলাকার বাসিন্দা) এবং একই গ্রামের মোহাম্মদ আলী মন্ডলের ছেলে মো. মহিদুল (৩৪)। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত মহিদুলের বিরুদ্ধে আদালতে আগের একটি চুরি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুলাই লালমনিরহাটের পাটগ্রামের রসুলগঞ্জ হাট থেকে ১২টি গরু কিনে ট্রাকে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন ব্যবসায়ী মোঃ জামাল উদ্দিন। রাত আনুমানিক নয়টার দিকে ট্রাকটি বগুড়ার শেরপুর থানার ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে ১০/১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল অন্য একটি ট্রাক দিয়ে তাদের গতিপথ রোধ করে।
ডাকাতরা বাদীর ট্রাকের জানালার গ্লাস ভেঙে ভেতরে ঢুকে চালক, হেলপার ও ব্যবসায়ীদের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে জিম্মি করে ফেলে। পরে তারা ১৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের ১২টি গরু, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৫ হাজার টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে শেরপুর থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম-এর নির্দেশনায় শেরপুর থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ছায়া তদন্ত শুরু করে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই মোহাম্মদ ফজলুল হকসহ যৌথ টিম ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার হাতিয়া এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে আব্দুস সালাম ও বুলু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত ট্রাক এবং পাঁচটি মৃত গরু উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ১টা ৪৫ মিনিটে সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতু পশ্চিম থানা এলাকার গোলচত্বরে অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্য সদস্য মহিদুলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে লুণ্ঠিত আরও দুটি জীবিত গরু উদ্ধার করা হয়।
বগুড়া জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সাথে জড়িত এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারসহ বাকি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/175741