বগুড়ায় টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ নিরসনে মাঠে সিটি প্রশাসক

বগুড়ায় টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ নিরসনে মাঠে সিটি প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার : গত বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ২টা পর্যন্ত বগুড়ায় ১৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি। এখন পর্যন্ত এটাই মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। নিম্নচাপের প্রভাবে কখনো মাঝারি আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টির ফলে বগুড়া মহানগরের বেশিরভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এরমধ্যে সাতমাথা, নিউমার্কেট, গোহাইল রোড, সেউজগাড়ি, সবুজবাগ, মালতিনগর, বড়গোলা, বগুড়া-চন্দনবাইশা সড়ক, কৈগাড়িসহ শহরের প্রধান সড়কগুলোতে কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও ড্রেনের পানি ছাপিয়ে বাড়ি-ঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে চরমভোগান্তি তৈরি হয়। শহরে যারা বের হয়েছিলেন তাদের প্রচন্ড দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করে নষ্ট হয় আসবাবপত্র ও পণ্য সামগ্রী। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি চান  নগরবাসী।

সারাদিনের এমন অবস্থা ও জনগণের দুর্ভোগ কমাতে জলাবদ্ধতার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে গত বুধবার রাতে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন সিটি প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। এসময় তিনি সাতমাথাসহ বেশকিছু জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে হেঁটে পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যবস্থা নিতে বলেন। এছাড়াও তিনি জলাবদ্ধ এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে সাতমাথায় আটকে থাকা পানি অপসারণের জন্য এক্সেভেটর দিয়ে পুরাতন ড্রেন ভেঙে নতুন ড্রেন কাজের উদ্বোধন করেন। নতুন ড্রেনটি সাতমাথার জিলা স্কুলের সামনে দিয়ে সার্কিট হাউজের পাশ দিয়ে বড় রাস্তা ক্রস করে, পুলিশ প্লাজার সামনে দিয়ে নবাববাড়ী সড়ক ক্রস হয়ে করতোয়া নদীতে গিয়ে পড়বে।  

এসময় এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, সাতমাথা থেকে করতোয়া নদীতে পানি প্রবাহিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সাতমাথা থেকে ড্রেনগুলো খুলে দেখা গেছে, খুবই খারাপ অবস্থা। ময়লা-আবর্জনা দিয়ে ড্রেনগুলোর মুখ বন্ধ হয়ে আছে। তিনি আরও বলেন, আমাদের একটু সময় দেন, আমরা খুব শিগ্গরই জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে পারবো। এ ব্যাপারে তিনি সিটিবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। 

 

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/175643