পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালা সাবস্টেশন বন্ধ, বিদ্যুৎহীন সাজেকোচ

পাহাড়ি ঢলে দীঘিনালা সাবস্টেশন বন্ধ, বিদ্যুৎহীন সাজেকোচ

টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঝরনাগুলো যেন একসঙ্গে নেমে এসেছে জনপদে। উজান থেকে আসা প্রবল ঢলে দ্রুত বাড়তে থাকে পানি, আর সেই পানিই পৌঁছে যায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের (সাবস্টেশন) ট্রান্সফরমারের একেবারে কাছাকাছি। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে অন্ধকারে ডুবে যায় দীঘিনালা উপজেলা ও পর্যটনকেন্দ্র সাজেক। কয়েক হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলে আশপাশের জলাধার ও ছড়াগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে উপকেন্দ্র এলাকায় প্রবেশ করতে শুরু করে। বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় তাৎক্ষণিকভাবে সাবস্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। 

দীঘিনালা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আমিন জানান, সকাল ১০টার পর থেকেই পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরোয়া কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, ইন্টারনেটনির্ভর সেবা ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। তিনি বলেন, বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানি এখনো বাড়ছে, ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।

দীঘিনালা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এরশাদ আলী বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানি ট্রান্সফরমারের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি নেমে গেলে উপকেন্দ্রের সব যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিরাপদ মনে হলে আবার বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হবে।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রভাব পড়েছে সাজেকেও। পর্যটন মৌসুমে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকরা যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন, তেমনি বিপাকে পড়েছেন হোটেল-রিসোর্ট মালিক, দোকানদার ও অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন চার্জ, ইন্টারনেট ব্যবহার, খাবার সংরক্ষণসহ নানা সেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। 

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই তারা দ্রুত পানি নেমে গিয়ে নিরাপদ পরিবেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালুর অপেক্ষায় রয়েছেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/175506