মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে নেই সেই ‘অদৃশ্য প্রতিপক্ষ, স্বস্তিতে আর্জেন্টিনা
আটলান্টার আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামলেও গুমোট গরম আর আর্দ্রতার অস্বস্তিটা কিন্তু কাটেনি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আগামীকাল ম্যাচের দিন এখানকার তাপমাত্রা ছুঁতে পারে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিশ্বকাপ শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার জন্য বড় স্বস্তির খবরও এটি। মোহাম্মদ সালাহদের পাশাপাশি মাঠের ভেতর কোনো ‘অদৃশ্য প্রতিপক্ষ’ অর্থাৎ তীব্র গরমের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না লিওনেল মেসিদের।
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় যখন ম্যাচটি শুরু হবে, তখন বাইরে কড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরম থাকার কথা। তবে ডালাসের ভেন্যুগুলোর মতোই এই স্টেডিয়ামটির ছাদ পুরোপুরি বন্ধ করা যায় এবং পুরো গ্যালারিশুদ্ধ মাঠটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। ফলে বাইরের আবহাওয়া মাঠের ফুটবলারদের খুব বেশি প্রভাবিত করতে পারবে না।
গত শুক্রবার মায়ামির মাঠে কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের ঘামঝরানো জয় পায় লিওনেল স্কালোনির দল। মায়ামির চরম আর্দ্রতা আর গরমে হাঁসফাঁস করতে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের। ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোয় ফুটবলারদের শারীরিক ধকল চরমে পৌঁছায়।
মাঠেই মাংসপেশির টানে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখা গিয়েছিল এনজো ফার্নান্দেজ ও ফাকুন্দো মেদিনার মতো তারকাদের। উরুগুয়েকে বিদায় করে দেওয়া কেপ ভার্দের বিপক্ষে সেই ম্যাচে অতিরিক্ত শারীরিক খাটুনির পর ফুটবলাররা এমনিতেই কিছুটা ক্লান্ত।
সেই তুলনায় আটলান্টার এয়ার-কন্ডিশন্ড স্টেডিয়াম আর্জেন্টিনা দলের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। এর আগে ডালাসের মাঠে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে যখন কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় খেলেছিল আর্জেন্টিনা, তখন মাঠের পারফরম্যান্সে ফুটবলারদের বেশ চনমনে লেগেছিল।
নকআউট পর্বের এই পর্যায়ে এসে মিশরকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা কতটা কঠিন, তা জানা আছে সবারই। তবে মাঠের বাইরে বাড়তি ক্লান্তি বা ডিহাইড্রেশনের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া নিশ্চিতভাবেই লিওনেল স্কালোনির রণকৌশল সাজাতে বড় স্বস্তি দেবে। মাঠের লড়াই শুরুর আগে প্রকৃতির এই অনুকূল পরিবেশের সুবিধা আর্জেন্টিনা কতটা নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/175375