মাত্র ১০ টাকায় পার্সেল ডেলিভারি, সাথে থাকছে সহজে লাইভ ট্র্যাকিং সুবিধা

মাত্র ১০ টাকায় পার্সেল ডেলিভারি, সাথে থাকছে সহজে লাইভ ট্র্যাকিং সুবিধা

ডিজিটাল প্রযুক্তি ও আধুনিক অবকাঠামোর সমন্বয়ে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তাদের সেবায় এনেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। সাধারণ গ্রাহক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পার্সেল পরিবহনের উদ্দেশ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছে স্পিড পোস্ট সেবা।

‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা, ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ’-এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে পরিচালিত সেবাটির বিভিন্ন সুবিধার তথ্য সম্প্রতি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ফেসবুক পেজে তুলে ধরা হয়েছে।

স্পিড পোস্টে কম খরচে পার্সেল পাঠানোর সুযোগ

ডাক বিভাগের সেবাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করতে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১টি ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল পোস্ট অফিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ই-কমার্স খাতের লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১৪টি আধুনিক ফুলফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপনের কাজও চলছে। এর ফলে পার্সেল পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্পিড পোস্টের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর স্বল্প ডাক মাশুল। প্রথম ১ কেজি পর্যন্ত পার্সেল পাঠাতে খরচ হবে মাত্র ১০ টাকা। এরপর প্রতি অতিরিক্ত কেজির জন্য গুনতে হবে মাত্র ৫ টাকা। ফলে বেসরকারি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক কম খরচে পণ্য পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এই সেবা ব্যবসার পরিচালন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গ্রাহকদের সুবিধার্থে ডাক বিভাগ একটি ডিজিটাল ডাক মাশুল ক্যালকুলেটরও চালু করেছে। নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে পার্সেলের ওজন অনুযায়ী সহজেই সম্ভাব্য খরচ জানা যাবে।

অনলাইনে পার্সেলের অবস্থান জানা যাবে

স্পিড পোস্টের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা। পার্সেল বুকিং সম্পন্ন হওয়ার পর গ্রাহক ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে যেকোনো সময় জানতে পারবেন সেটি বর্তমানে কোথায় রয়েছে। ডাক বিভাগের নির্ধারিত ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে ২৪ ঘণ্টাই পার্সেলের সর্বশেষ তথ্য দেখা যাবে।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ডাকঘরের নেটওয়ার্ক থাকায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও সহজে পার্সেল পাঠানো ও গ্রহণ করা সম্ভব। বিদেশে পার্সেল পাঠানোর জন্য রয়েছে ইএমএস (এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস) এবং আন্তর্জাতিক পার্সেলের অবস্থান জানার জন্যও আলাদা গ্লোবাল ট্র্যাকিং সুবিধা রয়েছে।

কত সময়ের মধ্যে পৌঁছাবে পার্সেল?

পার্সেল পাঠানোর প্রক্রিয়াটি রাখা হয়েছে সহজ ও ঝামেলামুক্ত। নিকটস্থ নির্ধারিত ডাকঘরে পণ্য নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় মাশুল পরিশোধ করলেই বুকিং সম্পন্ন হবে। এরপর ট্র্যাকিং নম্বরসহ একটি সরকারি রসিদ দেওয়া হবে।

ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার মধ্যে পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা এবং ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে।

ঢাকায় যেসব পোস্ট অফিস থেকে ডেলিভারি মিলবে

রাজধানীর গ্রাহকেরা ঢাকা জিপিও, গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, ওয়ারীসহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ২১টি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পার্সেল ও চিঠি গ্রহণ কিংবা প্রেরণের সুবিধা পাচ্ছেন।

যোগাযোগের ঠিকানা

স্পিড পোস্টসহ ডাক বিভাগের অন্যান্য সেবা সম্পর্কে তথ্য, অভিযোগ বা বুকিং-সংক্রান্ত যেকোনো সহায়তার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে।

ডাক অধিদপ্তর: ০১৩৩৫১২৪৪৫৮
মেট্রোপলিটন সার্কেল, ঢাকা: ০১৭১১৯৪৫১৭৬

এ ছাড়া ডাক বিভাগের আধুনিক সেবা, ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং নিকটস্থ ডাকঘরের তথ্য জানতে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/175329