তেলাপিয়া মাছ খেলে শরীরে যেসব প্রভাব পড়ে

তেলাপিয়া মাছ খেলে শরীরে যেসব প্রভাব পড়ে

মাছে-ভাতে বাঙালির খাবারের তালিকায় ইলিশ, রুই, কাতলার পাশাপাশি তেলাপিয়া মাছও বেশ জনপ্রিয়। কম কাঁটা, সহজে রান্না করা যায় এবং তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় বলে অনেক পরিবারের নিয়মিত খাবারের তালিকায় থাকে এই মাছ। তবে তেলাপিয়া নিয়ে বিতর্কও কম নয়। কেউ বলেন, এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর, আবার কেউ মনে করেন চাষের পদ্ধতির কারণে এই মাছ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

আসলে তেলাপিয়া মাছ ভালো না খারাপ, তা অনেকটাই নির্ভর করে মাছটি কোথায় ও কীভাবে চাষ করা হয়েছে এবং কীভাবে রান্না করা হচ্ছে তার ওপর। পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে চাষ করা তেলাপিয়া পরিমিত পরিমাণে খেলে শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।

পুষ্টিগুণে ভরপুর

তেলাপিয়া মাছ উচ্চমানের প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। এতে রয়েছে ভিটামিন বি-১২, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম এবং অল্প পরিমাণ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। প্রোটিন শরীরের কোষ গঠন, পেশি শক্তিশালী রাখা এবং ক্ষত দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। তাই শিশু, কিশোর, প্রাপ্তবয়স্ক-সব বয়সের মানুষের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে তেলাপিয়া রাখা যেতে পারে।

তেলাপিয়ায় থাকা সেলেনিয়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতেও এটি সহায়ক হতে পারে।

 মস্তিষ্কের জন্য উপকারী

তেলাপিয়ায় থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। যদিও সামুদ্রিক মাছের তুলনায় এতে ওমেগা-৩-এর পরিমাণ কম, তবুও এটি একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। নিয়মিত মাছ খাওয়ার অভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক।

ঝুঁকি থাকে কোথায়

তেলাপিয়া মাছ নিয়ে উদ্বেগের প্রধান কারণ মাছটি নয়, বরং এর চাষের পরিবেশ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দূষিত জলাশয়ে চাষ করা কিছু তেলাপিয়ার শরীরে আর্সেনিক, সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মতো ভারী ধাতু জমা হতে পারে। দীর্ঘদিন এসব দূষিত উপাদান শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।এমনকি বেড়ে যায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও।

এছাড়া কিছু অস্বাস্থ্যকর খামারে মাছ দ্রুত বড় করার জন্য নিম্নমানের খাদ্য, অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক বা বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিবেশে উৎপাদিত মাছ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে সব খামারের মাছই যে এমন, তা নয়। তাই পরিচিত ও বিশ্বস্ত উৎস থেকে মাছ কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ।

রান্নার আগে যা করবেন

বাজার থেকে মাছ আনার পর প্রথমেই পেট, কানকো ও ভেতরের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে কয়েকবার ধুয়ে নিন। চাইলে লবণ ও হলুদ মাখিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিতে পারেন। এতে মাছের কাঁচা গন্ধ কমে এবং রান্নার স্বাদও ভালো হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলাপিয়া মাছ সবসময় সম্পূর্ণ সিদ্ধ বা ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া উচিত। অপর্যাপ্ত রান্না করা মাছ খেলে খাদ্যবাহিত জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। ঝোল, ভাজা, গ্রিল, প্যান ফ্রাই কিংবা বেক করে রান্না করুন না কেন, মাছ যেন ভেতর পর্যন্ত ভালোভাবে সিদ্ধ হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/175172