বগুড়ার ধুনটে ১টি গরু থেকে কোটি টাকার মালিক রবিউল-রুমি দম্পত্তি
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : সফলতা কখনও হঠাৎ করে আসে না। এর পেছনে থাকে কঠোর পরিশ্রম-আত্মত্যাগ আর ধৈর্য। জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ প্রতিকুলতা আর ব্যর্থতার মধ্যে দিয়েই একজন মানুষ সফলতার শিখরে ওঠে। এ কথাগুলোকেই যেন সম্ভব করে তুলেছেন বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের যমুনা পাড়ের রঘুনাথপুর গ্রামের রবিউল-রুমি দম্পতি।
একের পর এক ব্যর্থ হওয়ার পর যখন ভাবলেন তাদের দ্বারা আর কোন কিছুই সম্ভব না। তখন শেষ ভরসা হিসেবে বেছে নিলেন গরুর খামারকে। যেই ভাবা সেই কাজ-মাত্র ১টি গরু নিয়ে শুরু করে এখন ছোট-বড় ২১ গরুর মালিক এই দম্পতি। বর্তমানে গরুর খামার থেকে মাসে আয় করেন লাখ টাকারও বেশী। মাত্র ৮ বছরে হয়েছেন কোটিপতি।
জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে এক দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যান রবিউল। কিন্ত সেখানে কাঙ্খিত চাকরি না মেলায় ২১দিন পর দেশে ফিরে আসেন। অভাব অনটনের সংসার। স্ত্রীর পরামর্শে গরু পালনের সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ৮ বছর আগে এনজিও থেকে স্ত্রীর নামে ৪০ হাজার টাকার ঋণ নিয়ে ১টি গরু কিনে পালন শুরু করেন। তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন মাঝারি আকারের খামার। প্রতিবছর গরু ও দুধ বিক্রির টাকা দিয়ে নতুন করে বাছুর কেনেন।
দিনে দিনে রবিউল-রুমির সময় বদলাতে থাকে। দুধ বিক্রির টাকা দিয়ে বিদেশী জাতের গরু কেনেন এবং গরুর বংশবৃদ্ধিতে মনোযোগী হন। এখন গরুর খামার থেকে প্রতিদিন দুধ বিক্রি করেন ১০০ থেকে ১৪০ লিটার। গরুর জন্য চাষ করেছেন উন্নত জাতের ঘাস ও পশুখাদ্য।
খামারের কাজে স্বামীকে সহযোগীতা করেন রুমি খাতুন। পরিবারে এখন সচ্ছলতা এসেছে। খামারের আয় দিয়ে কিনেছেন জমি, গড়েছেন পাকা বাড়ি এবং ব্যাংকে জমিয়েছেন টাকা।
গরুর খাবার নিয়ে রবিউল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন কাঁচা ঘাস, খড়, ভূসি, ভুট্টা, খৈল খাওয়াই। জমিতে উন্নতজাতের ঘাস নিজেই চাষ করি। বাজার থেকে খাবার বেশি কিছু কিনতে হয় না। এ জন্য গরুগুলোর স্বাস্থ্যঝুঁকি কম।
অনেক সময় প্রয়োজনীয় ডাক্তার পাওয়া যায় না। নিজে নিজে প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে বিভিন্ন সময় পরামর্শ নিয়েছি। আস্তে আস্তে এখন তিনি বিভিন্ন রোগের কারণ ও তার প্রতিকার এবং প্রতিরোধের ব্যাপারে বেশ ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি সরকারের কাছ থেকে কোনো সহায়তা চাই না। তবে সরকার যেন উন্নতমানের ভ্যাকসিন সরবরাহ করে সেটা চাই। ভবিষ্যতে আয় বাড়ানোর জন্য খামারে গরুর সংখ্যা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
রবিউলের স্ত্রী রুমি খাতুন বলেন, গৃহস্থালি অন্যান্য কাজের ফাঁকে খামারের কাজে স্বামীকে সহযোগীতা করি। গরুকে ঘাস খাওয়ানো, গোসল করানো সহ সব কাজই করে থাকি। পাশাপাশি একমাত্র ছেলেকে স্কুলে আনা-নেওয়া ও বাড়িতে লেখাপড়ার দেখভাল করি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/175086