বগুড়া রেল কলোনিতে জরাজীর্ণ ভবনে মানবেতর জীবন, দখলদারিত্ব ও মাদকের আখড়া

বগুড়া রেল কলোনিতে জরাজীর্ণ ভবনে মানবেতর জীবন, দখলদারিত্ব ও মাদকের আখড়া

শহর প্রতিনিধি (বগুড়া) : বগুড়া রেল কলোনির সরকারি কোয়ার্টারগুলো এখন বসবাসের অনুপযোগী। ছাদের আস্তরণ খসে পড়া ও দেওয়াল ধসে পড়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন রেলের ওয়েম্যান, খালাসি ও মেইডসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা।

জরাজীর্ণ বাসাবাড়ি: সরেজমিনে দেখা যায়,লাল ইটের ভবনগুলোর বেশিরভাগেরই বেহাল দশা। বৃষ্টির পানি আটকাতে ছাদে পলিথিন ও টিনের ছাউনি দিয়ে কোনোমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছেন বাসিন্দারা। ৭ নম্বর গ্যাং হাটের ৮ ঘরের ১ ঘর বিশিষ্ট কোয়ার্টারে কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ করে কোয়ার্টারের বাসিন্দা বাংলাদেশ রেলওয়ের মেইড পদে কর্মরত কর্মচারী ফজলুর রহমান পান্নু বলেন, বাধ্য হয়েই পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করছি, কারণ পেশাগত প্রয়োজনে স্টেশনের কাছাকাছি থাকা ছাড়া আমাদের উপায় নেই উপায় নেই।

বাসাভাড়া নিয়ে অনিয়ম ও অবৈধ দখল: অনুসন্ধানে ভিন্ন এক চিত্রও উঠে এসেছে। রেলের অনেক কর্মচারী নিজের নামে বরাদ্দ পাওয়া কোয়ার্টারগুলো অবৈধভাবে ভাড়া দিয়েছেন। এমনকি একটি বাসায় একাধিক পরিবারকে গাদাগাদি করে বসবাস করতেও দেখা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির বগুড়া জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিবুর রহমান রাকিব বলেন, আমার বাবা ও ভাই রেলের কর্মচারী, আমরা ৬ জন পূর্ণ বয়সী মানুষ ও শিশুদের নিয়ে দুই ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করি। আমারা কোয়ার্টারের বরাদ্দ পাই না অথচ বেদখল করে ভাড়া উত্তোলন করছেন প্রভাবশালীরা।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক এক নেতার দখলে রয়েছে বেশ কয়েকটি রেল কোয়ার্টারের ঘর। সেগুলোর ভাড়া উত্তোলন করেন এখন তার আপন সহোদর ভাই। এছাড়া রেলস্টেশনের সামনের ফুটপাতের দোকান থেকেও নিয়মিত চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়াও, পূর্বপাশের কোয়ার্টারের সাথে পশ্চিমপাশের কোয়ার্টারের সড়কের বেহালদশা, বর্জ্য ও পয়:নিষ্কাশনের অব্যস্থাপনা দেখিয়ে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কয়েকজন মহিলা । ছাদের নষ্ট হওয়া অংশে যেখানে টিন দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে তা দেখিয়ে তারা অভিযোগ করে বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে আমদের বসতঘর,রান্নার জায়গা ও বাথরুম ব্যবহার অনুপেযোগী হয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টিতে হাটু পানি জমে যায় ,জলাবদ্ধতায় আটকে থাকে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন।

মাদক ও নিরাপত্তার সংকট: রেল কলোনি এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ায় মাদক কেনাবেচা ও সেবন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সম্প্রতি প্রচুর মাদক কারবারিকে আটকও করা হয়েছে। নিরাপত্তার আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বসবাসকারী বলেন, এখানে অসংখ্যবার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ,যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছেন,আটক-গ্রেফতার সবই হয় ;কিছুদিন পর তারা আবার মাদক কারবার শুরু করে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: বাংলাদেশ রেলওয়ের বগুড়া দপ্তরের সহকারী নির্বাহি প্রকৌশলী নারায়ণ প্রসাদ সরকার বলেন , সংস্কারের জন্য আমরা কয়েকটি আবেদনের ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই কয়েকটি কোয়ার্টারের ঘরের বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ করেছি। আবেদন পেলে আবশ্যকতার ভিত্তিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবহার অনুপোযোগী কোয়ার্টারগুলোর বিষয়ে জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে ।

এদিকে, রেলওয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (আর এস) আহমেদ মাহবুব চৌধুরী সম্প্রতি বগুড়া সফরকালে দৈনিক করতোয়াকে জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174749