নাটকীয়তার পর শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্র

নাটকীয়তার পর শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্র

স্পোর্টস ডেস্ক: স্বাগতিক দায়িত্বে শেষ পর্যন্ত নিজেদের কাজটা করল যুক্তরাষ্ট্রও। কানাডা ও মেক্সিকোর পর ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠল তৃতীয় আয়োজক দেশটি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০০২ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ জিতল যুক্তরাষ্ট্র।

ম্যাচের গল্পটা অবশ্য শুধু জয়ের নয়, নাটকেরও। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন ফোলারিন বালোগুন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সেই বালোগুনই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের দল নিয়েও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। ৮২ মিনিটে মালিক টিলম্যানের ফ্রি-কিক নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ ষোলোর টিকিট।

সান্তা ক্লারায় শুরুটা খুব ঝড়ো ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র বল পায়ে স্বচ্ছন্দ ছিল, কিন্তু ক্রিস্টিয়ান পুলিসিককে শুরুতে খুব বেশি জায়গা দেয়নি বসনিয়ার রক্ষণ। অন্যদিকে বসনিয়াও কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে উঠেছিল, তবে বড় সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

বালোগুন প্রথমার্ধেই একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু অল্পের জন্য অফসাইডে গোলটি বাতিল হয়। সেই হতাশা অবশ্য বেশিক্ষণ থাকেনি। ৪৫ মিনিটে সুযোগ পেয়ে বল জালে পাঠান মোনাকোর এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধ শেষ হয় যুক্তরাষ্ট্রের ১-০ লিডে।

বিরতির পর ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যায়। ঘণ্টাখানেকের একটু বেশি সময় পর বসনিয়ার তারিক মুহারেমোভিচের সঙ্গে বলের লড়াইয়ে বালোগুনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ভিডিও পর্যালোচনার পর তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি রাফায়েল ক্লাউস। গোলদাতা থেকে মুহূর্তেই বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে যান বালোগুন।

একজন কমে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সতর্ক হয়ে খেলতে হয়। বসনিয়া বলের দখল বাড়ায়, আক্রমণেও চাপ তৈরি করে। তবে এডিন জেকো খুব বেশি সময় মাঠে থাকতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই চোটের কারণে তাকে তুলে নিতে হয়, যা বসনিয়ার আক্রমণ পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা হয়ে আসে।

চাপে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ভেঙে পড়েনি। রক্ষণভাগ নিচে নেমে জায়গা বন্ধ করে, মাঝমাঠও আরও পরিশ্রমী হয়ে ওঠে। পুলিসিকও একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু সেটিও অফসাইডে বাতিল হয়। ম্যাচ তখনও পুরোপুরি খোলা।

৮২ মিনিটে আসে যুক্তরাষ্ট্রের স্বস্তির গোল। বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকে বল বসান টিলম্যান। এরপর বাঁকানো শটে বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলিকে পরাস্ত করেন তিনি। গোলটি শুধু স্কোরলাইন ২-০ করেনি, ১০ জনের যুক্তরাষ্ট্রকে মানসিকভাবেও ম্যাচের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যায়।শেষ দিকে বসনিয়া মরিয়া চেষ্টা করেছে। কয়েকটি নিচু শট, বক্সে চাপ, লম্বা বল, সবকিছু সামলাতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিস ও রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত ক্লিন শিট ধরে রাখে।

এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঐতিহাসিক। ২০০২ বিশ্বকাপে মেক্সিকোকে হারানোর পর বিশ্বকাপের নকআউটে আর জয় পায়নি তারা। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে সেই ২৪ বছরের অপেক্ষা ভাঙল পচেত্তিনোর দল।

তবে আনন্দের সঙ্গে দুশ্চিন্তাও আছে। বালোগুন লাল কার্ড দেখায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সামনে প্রতিপক্ষ আরও কঠিন। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে আরও গোছানো ফুটবল খেলতে হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174676