তিস্তার প্রবল স্রোতে ভাঙনের মুখে চরবাসীর স্বপ্নের বাঁধ
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়াইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে তিস্তার ওপারে তাকালেই চোখে পড়ে দীর্ঘ একটি মাটির বাঁধ। এটি কোনো সরকারি প্রকল্প নয়, দিনমজুর, কৃষক, জেলে ও চরবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত এই বাঁধই গত তিন বছর ধরে বাগডোহরা, চরনোহালী, চিলাখাল, মটুকপুর ও বিনবিনা গ্রামের প্রায় ১২ হাজার মানুষের শেষ ভরসা।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৩ সালের ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙনে তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর সরকারি সহায়তার অপেক্ষা না করে এলাকাবাসী নিজেরাই চাঁদা ও শ্রম দিয়ে খেয়াঘাট থেকে বাগডোহরা মিনার বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করেন। গত বছরের বন্যায় দুই শতাধিক একর কৃষিজমি নদীগর্ভে গেলেও এই বাঁধ শত শত পরিবারের বসতভিটা রক্ষা করেছিল।
কিন্তু কয়েক দিনের পাহাড়ি ঢল আর তিস্তার পানি বৃদ্ধি-হ্রাসের তীব্র চাপে এবার বাঁধের বিভিন্ন অংশ বড় ধরণের ভাঙনের মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই বাঁধ টিকিয়ে রাখা না গেলে মূল বাঁধও বেশি দিন টিকবে না। ভাঙনের ঝুঁকি ঠেকাতে স্থানীয়রা নিজেরাই বালুভর্তি বস্তা ফেলছেন। কিন্তু নদীর প্রবল স্রোতের সামনে সেই চেষ্টা খুবই সীমিত।
নোহালী ইউনিয়নের চরনোহালীর বাসিন্দা মোনায়েম হোসেন বলেন, আমরা নিজের হাতে বাঁধ বানিয়েছি, জনপ্রতিনিধিরা ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছেন। এখন এ বাঁধটা ভাঙলে মূল বাঁধও টিকবে না। তখন পাঁচটা গ্রামের মানুষ আবারও ঘরহারা হবে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধে সরাসরি কাজ করার সুযোগ এ মুহূর্তে আমাদের নেই। তবে স্থানীয়দের আবেদনের পর ২শ’ টি জিও ব্যাগ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও দেওয়া হবে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174658