হাঁড়ি-পাতিল মাজার স্পঞ্জ বা জালি কত দিন পর পর পরিবর্তন করবেন?
রান্নাঘরের বাসন পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে সিঙ্ক, গ্যাসের চুলা, রান্নাঘরের স্ল্যাব কিংবা মসলার কৌটা পরিষ্কার করতে একই স্পঞ্জ ব্যবহার করেন অনেকেই। কাজ শেষ হলে সেটি আবার সিঙ্কের পাশে ভেজা অবস্থাতেই পড়ে থাকে। দেখতে পরিষ্কার মনে হলেও এই ছোট স্পঞ্জটি হতে পারে রান্নাঘরের সবচেয়ে জীবাণুবহুল জিনিসগুলোর একটি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই একটি বাসন মাজার স্পঞ্জ টানা কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত ব্যবহার করেন। কিন্তু এই অভ্যাস খাদ্যবাহিত রোগ, ফুড পয়জনিং এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই শুধু বাসন পরিষ্কার করলেই হবে না, স্পঞ্জটিও নিয়মিত বদলানো এবং পরিষ্কার রাখা জরুরি।
কেন স্পঞ্জে এত দ্রুত জীবাণু জন্মায়?
বাসন মাজার স্পঞ্জ বেশির ভাগ সময়ই ভেজা থাকে। এর সঙ্গে বাসনের গায়ে লেগে থাকা খাবারের ছোট ছোট কণা স্পঞ্জের ভেতরে আটকে যায়। আর্দ্রতা, উষ্ণ পরিবেশ এবং খাবারের অবশিষ্টাংশ একসঙ্গে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে।
দিনে একাধিকবার ব্যবহারের কারণে স্পঞ্জ পুরোপুরি শুকানোর সুযোগও পায় না। ফলে এর অসংখ্য ছোট ছিদ্র ও স্তরের মধ্যে দ্রুত জীবাণু বংশবিস্তার করতে থাকে।
যে ধরণের ধরনের জীবাণু থাকতে পারে
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ব্যবহার করা একটি রান্নাঘরের স্পঞ্জে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। বিশেষ করে কাঁচা মুরগির মাংস, মাছ, ডিম বা কাঁচা সবজি ধোয়া বাসন পরিষ্কার করার সময় স্পঞ্জে ক্ষতিকর জীবাণু জমা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
এর মধ্যে ই-কোলাই , সালমোনেলা এবং অন্যান্য খাদ্যবাহিত রোগ সৃষ্টি করতে পারে এমন ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। পরে সেই একই স্পঞ্জ দিয়ে প্লেট, কাপ বা রান্নার অন্যান্য বাসন পরিষ্কার করলে জীবাণু সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ক্রস কন্টামিনেশন, যা অনেক সময় খাদ্যবিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
কত দিন পর পর স্পঞ্জ বদলানো উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন যদি অনেক বাসন মাজা হয়, তাহলে প্রতি ৭ দিন পর স্পঞ্জ বদলে ফেলা সবচেয়ে নিরাপদ।সাধারণ পরিবারের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ দিন ব্যবহার করার পর নতুন স্পঞ্জ নেওয়া ভালো। আর যেসব বাড়িতে তুলনামূলক কম বাসন ধোয়া হয়, সেখানেও ১৫ দিনের বেশি একই স্পঞ্জ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া স্পঞ্জ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে, রং পরিবর্তন হয়ে গেলে, পিচ্ছিল অনুভূত হলে ছিঁড়ে বা ক্ষয়ে যেতে শুরু করলে দেখলেই স্পঞ্জ বদলে ফেলতে হবে।
স্পঞ্জ পরিষ্কার রাখবেন যেভাবে
শুধু স্পঞ্জ বদলালেই হবে না, প্রতিদিন ব্যবহারের পর সেটি পরিষ্কার করাও জরুরি। বাসন ধোয়া শেষ হলে প্রথমে স্পঞ্জটি পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন, যাতে খাবারের কণা না থাকে। এরপর কয়েক মিনিট গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে ভালোভাবে নিংড়ে নিন। সম্ভব হলে রোদে শুকিয়ে রাখুন বা এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে বাতাস চলাচল করে। ভেজা অবস্থায় দীর্ঘ সময় সিঙ্কের পাশে ফেলে রাখলে ব্যাকটেরিয়া আরও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই স্পঞ্জ যত দ্রুত শুকাবে, জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকিও তত কমবে।
বাসন পরিষ্কার করার স্পঞ্জ ছোট একটি জিনিস হলেও এটি রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নিয়মিত স্পঞ্জ পরিষ্কার করা, নির্দিষ্ট সময় পর বদলে ফেলা এবং ভেজা অবস্থায় ফেলে না রাখলে আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে খাদ্যবাহিত নানা রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে। একটি নতুন স্পঞ্জের দাম খুবই কম, কিন্তু এটি আপনার পরিবারের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: গুড হাউজকিপিং, হোমস অ্যান্ড গার্ডেন
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174598