ইতিহাস পাল্টানো বিপ্লবের সূচনার দিন আজ
আজ ১ জুলাই । শুরুটা হয় এখান থেকেই। উচ্চ আদালতের এক রায়কে কেন্দ্র করে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে শুরু হয় ছাত্র আন্দোলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সড়কে নেমে আসেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও।
শান্তিপূর্ণ এ আন্দোলন দমাতে ব্যাপক দমনপীড়ন চালায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে আন্দোলন আরও তীব্রতর হয়।
শাহবাগে অবস্থান নিয়ে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। সরকারের দমনপীড়ন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আন্দোলনে বাড়ে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ। আওয়ামী দুঃশাসনে বিক্ষুব্ধ মানুষ সমর্থন যোগায় আন্দোলনে।
১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। ওইদিন চট্টগ্রামে শহীদ হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। সারাদেশে আন্দোলন দাবানলের মতে জ্বলে ওঠে।
জাতিসংঘের হিসেবে এরপরের প্রায় তিন সপ্তাহ গুলি করে শিশুসহ হত্যা করা হয় প্রায় ১৪০০ মানুষকে।
এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। সড়কে নামে শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনমুখী লাখো মানুষের ঢল। অবস্থা বেগতিক দেখে ওইদিন দুপুরে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। পতন হয় কর্তৃত্ববাদী এক শাসনের। গণভবন ও সংসদভবন দখলে নেয় ছাত্র-জনতা।
পরে জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলার তদন্তে উঠে আসে, নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে মারণাস্ত্র ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এমনকি হেলিকপ্টার থেকে গুলি করারও নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে নগ্নভাবে ব্যবহারের প্রমাণও পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174558