বগুড়া মহানগরের সাতমাথা থেকে করতোয়া গেটলক না চালাতে সিটি প্রশাসকের আহবান

বগুড়া মহানগরের সাতমাথা থেকে করতোয়া গেটলক না চালাতে সিটি প্রশাসকের আহবান

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া মহানগরে তীব্র যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মহানগরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে চলাচলকারী করতোয়া গেটলক বাস সার্ভিস। এই সার্ভিসটি বন্ধের দাবি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে করতোয়া গেটলক বন্ধের জোরালো দাবি উঠলেও তা বহাল তবিয়তে চালু রয়েছে।

মহানগরের যানজট পরিস্থিতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছানোয় অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন। করতোয়া গেটলক বাসগুলো যেন মহানগরের জিরো পয়েন্টে প্রবেশ না করে বাইরে দিয়ে চলাচল করে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তরে চিঠি দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে এই রুটের রুট পারমিট বাতিল করে শহরের ভেতর দিয়ে এর চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন চরম ভোগান্তিতে থাকা শহরবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর পর স্টেশন রোড থেকে করতোয়া গেটলকের বাসগুলো ছেড়ে আসে। এরপর শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম মোড় ‘সাতমাথা’ হয়ে বাসগুলো শেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। একইভাবে শেরপুর থেকেও একই রুট ব্যবহার করে বাসগুলো আবার সাতমাথা হয়ে স্টেশন রোডে ফিরে আসে।

আয়তনে ছোট এবং সংকীর্ণ রাস্তার এই জেলা শহরের কেন্দ্রবিন্দু সাতমাথা। এই একটি মোড়কে কেন্দ্র করেই শহরের সিংহভাগ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালত গড়ে উঠেছে। এমন একটি অতি-ব্যস্ত মোড় দিয়ে ঘন ঘন বড় আকারের গেটলক বাস চলাচলের কারণে সারাদিনই সাতমাথা ও এর আশপাশের সড়কগুলোতে স্থবিরতা নেমে আসে। একটি বাস মোড় ঘোরার সময় পেছনে শত শত রিকশা, ইজিবাইক ও ব্যক্তিগত যানবাহন আটকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের অভিযোগ, করতোয়া গেটলক সার্ভিসের চালকরা শহরের ভেতরেই যাত্রী ওঠানামা করায় এবং যত্রতত্র বাস থামিয়ে রাখায় যানজট আরও প্রকট রূপ নেয়। বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সামসুল আলম বলেন,ছোট এই শহরে এমনিতেই যানবাহনের চাপ বেশি। তার ওপর ১০ মিনিট পর পর যদি শহরের বুক চিরে বড় বড় বাস যাতায়াত করে, তবে সাধারণ মানুষ চলবে কীভাবে? অবিলম্বে শহরের ভেতরে এই বাসের রুট পারমিট বাতিল করতে হবে।

যানবাহনের এই শৃঙ্খলাহীনতা ও যানজট নিরসনে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু করেছে। সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, শহরের পরিবেশ ও ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখতে করতোয়া গেটলক বাসগুলোকে শহরের বাইরে দিয়ে চলাচলের বিকল্প রুট ব্যবহারের জন্য জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বগুড়া শহরের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী চারপাশেই বাইপাস সড়ক রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের দূরপাল্লার যানবাহনগুলো যেভাবে শহরের বাইরে দিয়ে চলাচল করে, করতোয়া গেটলককেও একইভাবে বাইপাস ব্যবহারে বাধ্য করা গেলে সাতমাথার ওপর থেকে অন্তত ৫০ভাগ যানবাহনের চাপ কমে যাবে।

সকল অপশক্তির প্রভাব ভেঙে এবং ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসন দ্রুত করতোয়া গেটলকের রুট শহরের বাইরে স্থানান্তর করবে এমনটাই প্রত্যাশা বগুড়াবাসীর। বিআরটিএ বগুড়া অফিসের সহকারি পরিচালক মো. হারুন অর রশিদ জানান, বগুড়া শহরের মধ্যে দিয়ে চলাচল করা করতোয়া গেটলক গাড়ির কোন রুট পারমিট নাই। অনেক আগে থেকেই তারা রুটপারমিট নবায়ন করে না। তাই তা বাতিল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, মালিক পক্ষ, মোটর শ্রমিক, পুলিশ বিভাগ, জেলা প্রশাসন সম্মিলিত উদ্যোগ নিলে করতোয়া গেটলক বন্ধ করা সম্ভব।

বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জানান, শহরের মধ্যে দিয়ে করতোয়া গেটলক চলাচল করার কারনে যানজট হচ্ছে। যানজট নিরসন কল্পে করতোয়া গেটলক গাড়ি গুলি শহরের ভিতর প্রবেশ করতে না দিয়ে মূল শহরের বাইরে কোথাও হতে চলাচলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানিয়েছেন। বিআরটিএ অফিসেও এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই শহর সুন্দর করে গড়ে তুলতে যা যা করার তাই করা হবে। নগরবাসীর সবোর্চ্চ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174514