লালমনিরহাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদী, ঘটছে প্রাণহানি

লালমনিরহাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদী, ঘটছে প্রাণহানি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ভাঙন হুমকিতে পড়েছে নদীর তীর ও ফসলি জমিসহ বসতভিটা আর স্থাপনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবিষয়ে জরিমানাসহ শাস্তির ব্যবস্থা করা হলেও যেন কোন অবস্থাতেই থামানো যাচ্ছে না এই অপতৎপরতা।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত এরমধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এলাকায় তিস্তা নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। জব্দ করা হয় ড্রেজার মেশিন ও পাইপ। ঘটনাস্থলে ধ্বংস করা হয় পাইপগুলো।

থানায় আনা হয়েছে ড্রেজার মেশিন। এদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পারভেজ খান এবং মামুনুর রশিদ। ভোটমারী এলাকার কৃষক ইসলাম হক বলেন, ভাঙনের কারণে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে আবাদি জমি। ভাঙন হুমকিতে পড়েছে অনেকগুলো বসতভিটা।

ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ড্রেজার মেশিন জব্দ করেছে। আপাতত বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও কয়েকদিন পর আবারো শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সদর উপজেলার রাজপুর গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম আলী জানান, দিনের বেলা ড্রেজার মেশিন সরিয়ে রাখলেও রাতভর মেশিন চালিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়।

নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে নদীপাড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। আর নদীতে ভাঙনের ফলে সৃষ্টি হওয়া গর্তে ঘূর্ণি হওয়ায় বাড়ছে প্রাণহানীর মতো ঘটনা।লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, নদীর তীর থেকে ৪শ’-৫‘শ মিটার দূরত্বে বালু উত্তোলণ করা হলে সেটি ক্ষতি করবে না।

কিন্তু তীর থেকে ২০ থেকে ৩০ মিটার দুরত্বে বালু উত্তোলণ করলে তা ভাঙন সৃষ্টি করে। তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলণ ব্যবসায় পরিণত করেছে কিছু অসাধু লোক। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান জানান, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠার অবস্থানে রয়েছে।

যেখানে খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বালু উত্তোলণের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করে ধ্বংস করা হচ্ছে। তবে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয়দের সচতেনতা বাড়ানো জরুরি বলে তিনি এবিষয়ে স্থানীয়দের সহযোগীতা কামনা করেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174409