বগুড়ার সোনাতলায় মহিষ পালন করে চরাঞ্চলের কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

বগুড়ার সোনাতলায় মহিষ পালন করে চরাঞ্চলের কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সোনাতলার ৯টি ইউনিয়নের শত শত কৃষকের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে। যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা ধু-ধু বালুচর একসময় বন্যা আর খরায় যেখানে ফসল ফলানো ছিল রীতিমতো জীবনযুদ্ধ, সেখানে এখন বইছে পরিবর্তনের হাওয়া।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকেরা এখন আর কেবল গতানুগতিক কৃষি কাজের ওপর নির্ভরশীল নন। বিকল্প আয়ের সন্ধানে তারা বেছে নিয়েছেন মহিষ পালন; আর তাতেই বদলে গেছে চরের অর্থনৈতিক চালচিত্র। মহিষ পালন করে সোনাতলার চরাঞ্চলের শত শত কৃষক এখন স্বাবলম্বী।

মহিষ পালনের জন্য নদীর তীরবর্তী চর এলাকা অত্যন্ত উপযোগী। সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা, তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রাকৃতিক ভাবেই পাওয়া যায় প্রচুর  ঘাস। এছাড়া মহিষের জন্য পর্যাপ্ত পানি ও কাদার প্রয়োজন হয়, যা যমুনার চরে সহজলভ্য। চরের খোলা মাঠে গজে উঠা ঘাস খেয়েই মহিষের খাদ্যের বড় একটি অংশ পূরণ হয়। ফলে বাজার থেকে কেনা দানাদার খাদ্যের ওপর নির্ভরতা কমে যায় এবং কৃষকদের খরচও অনেক বাঁচে।

গরুর তুলনায় মহিষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় চিকিৎসা খরচও তুলনামূলক কম। চরের কৃষকদের প্রতিদিনের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস এখন মহিষের দুধ। চরে পালিত মহিষের দুধ বেশ ঘন এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় স্থানীয় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

প্রতিদিন ভোরে চরের বাথানগুলো থেকে দুধ চলে যাচ্ছে স্থানীয় বাজার ও বগুড়া শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে। প্রতিটি হৃষ্টপুষ্ট মহিষ লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি করে কৃষকেরা এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ ঘরে তুলছেন।

খাটিয়ামারী চরের বাসিন্দা শামছুল আলম বলেন, একসময় নদীতে ফসল তলিয়ে গেলে সারা বছর অভাব-অনটনে দিন কাটাতে হতো। কয়েক বছর আগে ধারদেনা করে ৩টি মহিষ কিনি। এখন আমার বাথানে ৩২টি মহিষ। দুধ বিক্রি করে আমার সংসারের নিত্যদিনের খরচ চলে, আর মহিষ বিক্রি করে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের সঞ্চয় করছি।

বগুড়ার সোনাতলার চরাঞ্চলে মহিষ পালন এখন আর কেবল শখ বা খণ্ডকালীন কাজ নয়, এটি পরিণত হয়েছে একটি লাভজনক শিল্পে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং দুধ সংরক্ষণের জন্য চরাঞ্চলে চিলিং সেন্টার (শীতলীকরণ কেন্দ্র) স্থাপন করা গেলে এই খাত আরও প্রসারিত হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174405