বগুড়া মহানগরে বৃষ্টির জলাবদ্ধতায় নাকাল জনজীবন

বগুড়া মহানগরে বৃষ্টির জলাবদ্ধতায় নাকাল জনজীবন

শহর প্রতিনিধি (বগুড়া) : কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও সামান্য বৃষ্টিতেই স্থবির হয়ে পড়ছে বগুড়া মহানগর। আজ সোমবার (২৯ জুন) টানা কয়েক ঘণ্টার বর্ষণে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো তলিয়ে গিয়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ড্রেনের ময়লা পানি উপচে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, এই মাঝারি বৃষ্টিতেই সাতমাথা বীরশ্রেষ্ঠ স্কয়ার, জিলা স্কুলের সামনে, জুলাই স্মৃতি স্তম্ভের দক্ষিণ পাশ এবং পৌর শহীদ খোকন পার্ক এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে যায়। ড্রেনের নোংরা পানি ও ময়লা আবর্জনা সড়কে ভাসতে থাকায় পথচারী, শিক্ষার্থী ও অটোরিকশার যাত্রীদের চলাচলে চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। পিচ্ছিল রাস্তায় অনেককে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

শহরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ড্রেনে জমে থাকা পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ও বিভিন্ন বর্জ্য নিয়মিত অপসারণ না করায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, সিটি কর্পোরেশন ঘোষণার পরও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি। চকযাদু রোডের নতুন ঢালাই রাস্তার শুরু ও শেষপ্রান্তের নিচু অংশে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ১নং রেল ঘুমটি এলকায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। এছাড়াও, জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়েছে সরকারি আজিজুল হক কলেজেও। কলেজের বটতলা চত্বর, শহীদ মিনারের সামনে ও ব্যবসায় অনুষদের মাঠসহ নতুন ভবনের সামনে পানি জমে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

জামিলনগর এলাকার করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ্যাডমিন অফিসার মো: ফজলুল হক বলেন, বড় ড্রেনের ময়লা পানি উপচে স্কুল ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে। এতে নিজস্ব নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় পানি অপসারণ করতে তাদের দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ, জামিলনগর তালতলা রোড, মালগ্রাম নামাপাড়া, তাপসী রাবেয়া স্কুল এলাকা, কৃষিফার্ম রোড, আনন্দ আশ্রম রোড, সেউজগাড়ী পালপাড়া, তালুকদারপাড়া ও সূত্রাপুর কসাইপাড়াসহ অনেক আবাসিক এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া শেরপুর রোডের ইয়াকুবিয়া স্কুলের মোড়, মফিজ পাগলার মোড়, জেলা জজের বাসভবন ও পিটিআই স্কুলের সামনের রাস্তা ছিল জলাবদ্ধ।

বিআরটিসি শপিং কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মো. আসাদুল হক কাজল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ট্রেড লাইসেন্স ও নিয়মিত কর পরিশোধ করার পরও নাগরিক সেবার বেহাল দশা। ভোগান্তি কমাতে অনেক ব্যবসায়ীকে রড ও বাঁশ দিয়ে ড্রেনের মুখ পরিষ্কার করতে দেখা গেছে। এছাড়া বগুড়া প্রেস ক্লাব, বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদ এলাকা, জেলা পরিষদ মার্কেট, প্রেসপট্টি ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের সামনের নিচু সড়কেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সকাল ৯টা ২০ মিনিট থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।  সোমবার রাতেও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। 

সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনের পরিকল্পনা ও স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, দীর্ঘ বিশ-পঁচিশ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করে ড্রেনগুলোকে সচল করতে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন। বেশকিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এগুলো বাস্তবায়ন হলে দ্রুতই মহানগরবাসী এর সুফল পাবেন। 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174330