মারা গেছেন ‘আমার বন্ধু নিরঞ্জন’ খ্যাত কবি ভাস্কর চৌধুরী
করতোয়া বিনোদন: ‘আমার বন্ধু নিরঞ্জন’ খ্যাত কবি, কথাসাহিত্যিক ভাস্কর চৌধুরী মারা গেছেন; তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। রোববার রাত পৌনে ১১টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে প্রয়াতের ছোট ভাই জিয়াউল আহসান জানান।
সোমবার বাদ ফজর ঢাকার উত্তর আদাবরের ঢাকা হাউজিং জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসর গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ভবানীপুরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ভাস্কর চৌধুরী পরিবার নিয়ে রাজধানীর ঢাকা হাউজিং এলাকায় নিজের বাড়িতে থাকতেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
অসুস্থবোধ করায় ভাস্কর চৌধুরীকে গত ১৫ জুন রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ভাস্কর চৌধুরী ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ভবানীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার আনুষ্ঠানিক নাম আশরাফুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পড়াশোনা শেষে সরকারি চাকরির পাশাপাশি লেখালেখি অব্যাহত রাখেন তিনি।
১৯৮৪ সালে প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘রক্তপাতের ব্যাকরণ’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে সাহিত্যাঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেন ভাস্কর। গল্প, কবিতা, উপন্যাস মিলিয়ে তার ৪০টিরও মতো বই রয়েছে।
বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি, মানুষ, লোকজ সংস্কৃতি এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম তার সাহিত্যকর্মের প্রধান উপজীব্য ছিল। সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর জীবন, সংস্কৃতি ও সংগ্রাম নিয়ে রচিত তার মহাকাব্যিক উপন্যাস ‘ধনসা মাতি ও তার জীবনবৃক্ষ’ প্রশংসা কুড়ায়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তার স্মৃতিকথা ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ’ প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে।
তার গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—বাষট্টি বিঘা নদী (১৯৮৭), কোথায় নিবাস (১৯৮৭), পতনের সময় (১৯৮৮), শনিবারে বৃষ্টি (১৯৯৯) । উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে—লালমাটি কালো মানুষ (১৯৯৮), স্বপ্নপুরুষ (১৯৯৮), মীমাংসা পর্ব (১৯৯৮), আষাড়ের জীবনদর্শন (১৯৯৯), ভূমি (২০১১), কৃষ্ণপুরাণ (২০১১), কখনও কখনও এরকম ঘটে (২০১২)।
২০১২ সালে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘আমার বন্ধু নিরঞ্জন’ তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয় ভাস্কর চৌধুরীকে। তার কবিতার অন্যান্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে—আমার কেবলই সমর্পণ (১৯৮৬) আমার ভেতরে আঁধার (২০১২), পরানের গহীন (২০১২), তোর বড় কষ্টরে (২০১২)।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174319