বগুড়ার সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলে অপরাধ বন্ধে পুলিশ ফাঁড়ি চান এলাকাবাসী

বগুড়ার সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলে অপরাধ বন্ধে পুলিশ ফাঁড়ি চান এলাকাবাসী

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: সারিয়াকান্দির ১২ টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় ৮ ইউনিয়ন যমুনা নদীর চরাঞ্চলে। এসব চরাঞ্চলে কোনও দুর্ঘটনা বা অপরাধ সংঘটিত হলে সেখানে দ্রুত প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়না। তাই চরাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষের নিরাপত্তার জন্য সেখানে দ্রুত পুলিশ ফাঁড়ির বাস্তবায়ন চান এলাকাবাসী।

সারিয়াকান্দি ১২ টি ইউনিয়ন এবং ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। তার মধ্যে ৪ টি ইউনিয়ন সম্পূর্ণ নদীগর্ভে এবং যেগুলো জামালপুরের মাদারগঞ্জ সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত। এগুলো হলো চালুয়াবাড়ী, কাজলা, কর্ণিবাড়ী এবং বোহাইল ইউনিয়ন। ৫ টি ইউনিয়নের আংশিক নদীগর্ভে অবস্থিত। এগুলো হলো, হাটশেরপুর, সারিয়াকান্দি সদর, কুতুবপুর, চন্দনবাইশা, কামালপুর ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকারও একটি ওয়ার্ড যমুনায় অবস্থিত।

ফলে এ উপজেলার প্রায় লাখ লাখ মানুষ চরাঞ্চলের বাসিন্দা। সেখানে নৌকাযোগে বা শুকনা মৌসুমে ঘোড়ার গাড়ি বা মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে হয়। তাই দ্রুত চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন না। এতে অনেক আগে থেকেই চরাঞ্চলে মাদকের বিস্তার ঘটছে, বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে এবং চুরি ডাকাতির মতো ঘটনাও প্রায়ই সংঘটিত হচ্ছে।

প্রতিবছর এখানে মহিষের বাথান থেকে একাধিক রাখালকে তুলে নিয়ে গিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। কখনো জোরপূর্বক গরু নৌকায় তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং রাখালদের মারপিট করা হচ্ছে। এছাড়া চরাঞ্চলে জমি সংক্রান্ত বড় ধরনের বিবাদ প্রায়ই চলমান রয়েছে। যা পুলিশের দ্রুত এ্যাকশন নিতে একটু বিলম্ব হয়। তাই চরাঞ্চলে দ্রুত পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করে চরবাসীর নিরাপত্তা দিতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন দিপন বলেন, সারিয়াকান্দি উপজেলার চরাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী নিরাপত্তার বাইরে অবস্থান করে এবং সেখানে নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। তাই চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে পুলিশ ফাঁড়ির দ্রুত বাস্তবায়ন আমাদের জোর দাবি।

সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ফ ম আসাদুজ্জামান বলেন, চরাঞ্চলে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে আমরা একাধিকবার উর্ধতন কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন প্রেরণ করেছি। আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুত চরাঞ্চলে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হবে।

বগুড়া-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলে পুলিশ ফাঁড়ি স্হাপন করা আমার জনগণকে দেয়া একটি অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে আমি জাতীয় সংসদে কথা বলেছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ডিও লেটার প্রদান করেছি। আশা করছি দ্রুত চরাঞ্চলে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন হবে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174261