জুলাই যোদ্ধাদের গেজেট হয়েছে, ১৭ বছরে যারা নিহত হয়েছে তাদের তালিকা কোথায়

জুলাই যোদ্ধাদের গেজেট হয়েছে, ১৭ বছরে যারা নিহত হয়েছে তাদের তালিকা কোথায়

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একই দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই সঙ্গে গত ১৭ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদেরও গেজেটভুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ, আর ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ছিল স্বৈরাচারবিরোধী একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন। দুটি ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য ভিন্ন হলেও উভয় ক্ষেত্রের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হবে। তবে একটিকে আরেকটির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সমীচীন নয়।

নিজেকে একজন শহীদের সন্তান উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে তার বাবা শহীদ হয়েছেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং দুই লাখ মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাদের অনেকের নাম এখনো সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের তালিকা তৈরির উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন।


আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তাদের দলও জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল এবং সেই আন্দোলনের প্রতি তারা পূর্ণ সম্মান জানান। তবে দীর্ঘ ১৭ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা নিহত, আহত বা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের অবদানও সমানভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

এক শোকাহত মায়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ওই নারীর সন্তান নিহত হয়েছেন। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের তালিকা করা হলেও দীর্ঘ সময়ের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের কোনো তালিকা নেই। এটি বৈষম্য সৃষ্টি করছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ও আহতদেরও দ্রুত গেজেটভুক্ত করা উচিত। এতে বৈষম্য দূর হবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক হবে।

বক্তব্যে দেশের সামাজিক অবক্ষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়। মাদক, জুয়া, ধর্ষণসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ সমাজকে ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174251