নাটকীয় ড্রয়ে নকআউটে অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া 

নাটকীয় ড্রয়ে নকআউটে অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া 

স্পোর্টস ডেস্ক: মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বদলে গেল ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউটের সমীকরণ। আলজেরিয়ার যোগ করা সময়ের গোলে যখন রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিল ইরান, তখনই ম্যাচের একেবারে শেষ আক্রমণে সমতা ফেরায় অস্ট্রিয়া। সেই ৩-৩ ড্রয়ে নাটকীয়ভাবে নকআউটে উঠে যায় অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া, আর হৃদয়ভাঙা বিদায় নিতে হয় ইরানকে।

রোববার (২৮ জুন) বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হলো অবিশ্বাস্য এক নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে। অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে ছিল ইরান। কারণ, ওই ম্যাচে আলজেরিয়ার জয় হলে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দল হিসেবে রাউন্ড অব ৩২-এ উঠে যেত তারা।

‘জি’ গ্রুপে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশরের বিপক্ষে তিনটি ড্র করে তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করেছিল ইরান। সমান পয়েন্ট নিয়ে অন্য দলগুলোর সঙ্গে টাইব্রেকারে এগিয়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ভর করছিল অস্ট্রিয়া-আলজেরিয়া ম্যাচের ওপর।

নাটকীয় সেই ম্যাচে প্রথমে এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। পরে আলজেরিয়া সমতা ফেরায়। দ্বিতীয়ার্ধে আবার এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া, কিন্তু রিয়াদ মাহরেজের গোলে আবারও ম্যাচে ফিরে আসে আলজেরিয়া। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে মাহরেজ নিজের দ্বিতীয় গোল করে আলজেরিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। সেই মুহূর্তে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাচ্ছিল অস্ট্রিয়া, আর নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছিল ইরানের।

কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগের মুহূর্তে, যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় সাশা কালাইজদজিচ হেডে গোল করে অস্ট্রিয়াকে ৩-৩ সমতা এনে দেন। ম্যাচের শেষ কিকেই বদলে যায় সব হিসাব। অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া একসঙ্গে নিশ্চিত করে রাউন্ড অব ৩২, আর অল্পের জন্য বাদ পড়ে যায় ইরান।

তবে মাঠের বাইরেও ইরানের এবারের বিশ্বকাপ ছিল নানা বিতর্ক ও প্রতিকূলতায় ঘেরা। চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে দলটিকে যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ও ভ্রমণ বিধিনিষেধের মধ্যে। কোচ আমির গালেনোয়ি অভিযোগ করেন, ভিসা জটিলতা, সাপোর্ট স্টাফদের প্রবেশে বাধা, ম্যাচ শেষে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হওয়াসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের।

ইরান শুরুতেই তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয়ার আবেদন জানায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টুকসন থেকে দলীয় বেস ক্যাম্প সরিয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নেয়ার অনুমতি পায় তারা। প্রথম দুই ম্যাচে দলটি ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে এবং খেলা শেষেই মেক্সিকোতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। শেষ ম্যাচের আগে কিছুটা শিথিলতা এনে তাদের দুই দিন আগে সিয়াটলে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়।

মিশরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ ড্র করার পরও আশা ছাড়েননি গালেনোয়ি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাদের পক্ষে ছিল না।

ম্যাচ শেষে হতাশ ইরান কোচ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে খুবই খারাপ আচরণ করা হয়েছে। আশা করি বিশ্ব একদিন এসব বিষয় সম্পর্কে জানবে। এই তরুণ ফুটবলাররা যে পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে।’

অন্যদিকে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার ৩-৩ ড্রটি ছিল চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর ম্যাচগুলোর একটি। শেষ দুই মিনিটে দুটি গোল শুধু ম্যাচের ফলই বদলায়নি, বদলে দিয়েছে নকআউট পর্বের পুরো সমীকরণও।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174168