নওগাঁর রাণীনগরে কদবেলের বাগানে দুই ভাইয়ের সফলতা
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে কদবেলের চাষ। পড়া-লেখা শেষ করে সরকারি চাকরির আশায় বসে না থেকে প্রগতিশীল কৃষক দুই ভাই মিলে নতুন উদ্যোগে গড়ে তুলেছে কদবেলের বাগান। জমি থেকে পাইকাররা এসে ভালো দামে বেল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে কদবেলের বাগানের পরিধি বৃদ্ধি এবং বিক্রি ভালো হওয়ায় লাভের অংশ বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে কৃষি উদ্যোক্তা দুই ভাই এখন সফলতার দ্বারপ্রান্তে।
জানা যায়, উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের ছাতারদীঘি গ্রামের আফজাল হোসেনের দুই ছেলে আনিছুর রহমান পাইলট ও কৃষি ডিপ্লোমাধারী আতিকুজ্জামান সবুজ তাদের পৈত্রিক প্রায় আড়াই বিঘা জমির মধ্যে কদবেলের বাগান গড়ে তোলেন। এই বাগানে প্রায় ২৫০ টির মতো বেল গাছ আছে। বেল চাষের অনুকূল আবহাওয়া হওয়ায় গাছগুলো রোগবালাই মুক্ত আছে।
বেল চাষি আনিছুর রহমান পাইলট জানান, আমি ২০১৩সালে বিএ পাশ করার পর সরকারি চাকরির আশায় আমার বয়স শেষ হয়ে যায়। আমার দাদার আমলের একটি বড় বেল গাছ ছিলো। গাছের চার পাশে ঝোপ-জঙ্গল থাকার কারণে তেমন বেল ধরতো না। এই গাছটি কিছু পরিচর্যা করার পর বেশ কিছু বেল ধরলে স্থানীয় লোকজন এই বেল কিনতে শুরু করেন। এখান থেকেই মূলত দেশী জাতের কদবেলের বাগান করার উদ্যোগ গ্রহণ করি।
আমার বাবার ১ বিঘা জমিতে রাঙ্গামাটি জেলা থেকে এনে কিছু চারা নিয়ে রোপণ করি। আমি নিজেই নিবিড় পরিচর্যার এক পর্যায়ে প্রতিটি গাছে বেল ধরতে শুরু করে। রোগবালাই তেমন না থাকায় প্রথম বছরে ফলন এবং দাম দুটোই ভালো পাই। তখন আমার ছোট ভাই আতিকুজ্জামান সবুজ কৃষি ডিপ্লোমাতে পড়া-লেখা করতো। শুরু থেকেই সে আমাকে নানান ধরণের কারিগরি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতো। এখন সে চাকরির চেষ্টার পাশাপাশি আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহিদুল ইসলাম জানান, এই উপজেলার মাটি ও জলবায়ু বানিজ্যিক ভাবে ফল চাষের উপযোগী। যার অনন্য দৃষ্টান্ত কৃষি উদ্যোক্তা আনিছুর রহমান ও আতিকুজ্জামানের তৈরি করা সমৃদ্ধ কদবেলের বাগান।
সাধারণ ভাবে অবহেলিত মনে করা হলেও আধুনিক পদ্ধতিতে কদবেলের মতো অপ্রচলিত ফলের চাষাবাদ লাভজনক। এতে বেকারত্ব দূর করে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করা সম্ভব। আমাদের পক্ষ থেকে এই বাগানটির নিবিড় পর্যবেক্ষণ করাসহ কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছি।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174152