মাদক বাংলাদেশের জন্য একটি সর্বগ্রাসী সংকট : বাদশা এমপি

মাদক বাংলাদেশের জন্য একটি সর্বগ্রাসী সংকট : বাদশা এমপি

শহর প্রতিনিধি (বগুড়া) : বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বেলুন উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে শহরে একটি বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

দেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক বিপ্লব ও যুদ্ধ ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা। তিনি বলেন, মাদক বাংলাদেশের জন্য একটি সর্বগ্রাসী সংকটে পরিণত হয়েছে। কেবল প্রশাসন, পুলিশ বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষে এ সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব নয়, এজন্য পরিবার ও সমাজকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি রেজাউল করিম বাদশা আরও বলেন, জাতীয় সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশনে প্রায় সব সংসদ সদস্যই মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করার একটি পরিকল্পিত হাতিয়ার, যা শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বগুড়া সিটি করপোরেশনের ২১টি ওয়ার্ডে দ্রুত মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকাসক্তি থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা  তানভির নামে স্থানীয় এক যুবকের প্রশংসা করে তাকে অন্যদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের কর্মসংস্থান পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি বেকার যুবকের কর্মসংস্থান এবং এক লাখ নার্স নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে। বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আলোচনা সভায় বগুড়া জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী অভিযানের তথ্যে জানানো হয়, ২০২৫ সালে জেলায় ১ হাজার ৮০৩টি অভিযান পরিচালনা করে ৭০২টি মামলায় ৭৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব অভিযানে হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, টাপেন্টাডল ও দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৮৩৮টি অভিযানে ৩৩৬টি মামলায় ৩৫০ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।

দিবসটি উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাদকবিরোধী পোস্টার ও স্টিকার লাগানো, লিফলেট বিতরণ, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন, শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, মাইকিং এবং ১৪টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনামূল্যে কাউন্সেলিং সেবা প্রদান।

বগুড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জিললুর রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রায়হান উদ্দিন মোরাদ পিপিএম এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশীদ আলম। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ধর্মীয় নেতা, এনজিও প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174138