‘লাইফলাইন’-এর সঙ্গে আমার পার্সোনাল লাইফ কানেক্টেড: মিম

‘লাইফলাইন’-এর সঙ্গে আমার পার্সোনাল লাইফ কানেক্টেড: মিম

বাবা–মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েনের গল্পে মুক্তি পেয়েছে ওয়েব ফিল্ম ’লাইফলাইন’। মুক্তির পর থেকেই ফিল্মটির গল্প ও শিল্পীদের অভিনয় দর্শকদের গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। গত ২৫ জুন সন্ধ্যায় রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর অডিটোরিয়ামে ’লাইফলাইন’ সিনেমাটির বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সিনেমার কলাকুশলী, সাংবাদিক, কনটেন্ট ক্রিয়েটররা উপস্থিত ছিলেন।

প্রদর্শনী শেষে সিনেমাটি নিয়ে নিজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম।

মিম বলেন, ‘এই গল্পটা আমার পার্সোনাল লাইফের সাথে কানেক্টেড। কারণ, আমার বাবা-মায়েরও বয়স হচ্ছে। তারাও মাঝেমধ্যে অসুস্থ হচ্ছে। সবার লাইফে এটা হয়। অনন্যা চরিত্র করতে গিয়েও আমি একই অনুভুতি ফিল করেছি। তাই আলাদা করে আমাকে চরিত্রে ঢুকতে হয়নি। এই কাজটি রিলিজের পর যারা দেখছেন সবাই ভীষণ প্রশংসা করছেন। আমি খুব সিওর যে লাইফলাইন যারাই দেখবে তাদের কাছে ভালো লাগবে।’

পর্দায় বাবা–মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ফিল্মটির মূল আবেগের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবনের অনুভূতি মেলাতে গিয়ে তিনি কান্না ধরে রাখতে পারেননি।

 

ফিল্মটিতে বাবা–মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বরেণ্য অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ এবং বিদ্যা সিনহা মিম। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে খায়রুল আলম সবুজের গলাও মমতায় ও আবেগে ভারী হয়ে আসে।

বিদ্যা সিনহা মিম ও রেজওয়ান পারভেজের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করলেও, বিশেষভাবে নজর কেড়েছে অভিনেতা আ খ ম হাসানের চরিত্রটি। টিভি নাটক ও ইউটিউবে আ খ ম হাসান অত্যন্ত পরিচিত এবং তুমুল জনপ্রিয় মুখ। তার সমসাময়িক অনেক অভিনেতা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত কাজ করলেও তাকে কেন এতদিন দেখা যায়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা স্বভাবসুলভ নম্রতার সাথে বলেন, ’এটা পরিচালকরা ভালো বলতে পারবেন। আমি অভিনেতা, যেখানে কাজ করার সুযোগ পাই সেখানেই কাজ করি। পর্দায় আমার চরিত্র দেখে ওই চরিত্রকেই মনে হয়েছে, মনে হয়নি আ খ ম হাসান অভিনয় করছেন। এটা পরিচালক এবং ইউনিটের সাফল্য।’

’লাইফলাইন’–এর মাধ্যমে বিদ্যা সিনহা মিম প্রথমবারের মতো কাজ করলেন চরকির কোনো প্রজেক্টে। ফিল্মটির নির্মাতা কাজী আসাদ, এর আগে চরকির জন্য অরিজিনাল সিরিজ ‘আধুনিক বাংলা হোটেল’ নির্মাণ করেছিলেন। এবার তিনি নার্মাণ করলেন অরিজিনাল ফিল্ম ’লাইফলাইন’। এর গল্প লিখেছেন মাহমুদুল হাসান টিপু , কাজী আসাদ, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন আসাদুজ্জামান আবীর ও কাজী আসাদ। 

গল্প নিয়ে নির্মাতা কাজী আসাদ জানান, ভালোবাসার টানে মানুষ কত দূর যায়? আর কত কিছু হারানোর ঝুঁকি নিতে পারে? শহুরে মেয়ে অনন্যার দুর্গম যাত্রা কেন এবং এর শেষ কোথায়? এসব উত্তরের মধ্যে দিয়ে গভির কিছু অনুভূতির কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মীম (Bidya Sinha Mim), রেজওয়ান পারভেজ, গাজী রাকায়েত, আ খ ম হাসান, খায়রুল আলম সবুজ, নাজনীন হাসান চুমকি, আনিসা নূর আয়াত, ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা।

ফিল্মে রেজওয়ান পারভেজকে দেখা গেছে কঠিন রাস্তায় বাইকে করে মিমকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। কঠিন ছিল এমন রাস্তায় মোটর সাইকেল চালানো, জানান রেজওয়ান। বলেন, ‘ক্ষেতের মধ্য দিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে হয়েছে। এটা এমনিতেই কঠিন। সেটাও সমস্যা হতো না, কিন্তু আমার সঙ্গে মিম (বিদ্যা সিনহা মিম) ছিলেন। এটা একটা দায়িত্ব যেন তিনি ঠিক থাকেন। মোটর সাইকেল নিয়ে পড়ে গিয়ে মিম যদি আহত হতেন, সেটা খুব কষ্টের হতো আমার জন্য বা যে কারও জন্যই।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/174063