আমেরিকার সাথে সম্পর্কে ফাটল, ইসরায়েলের ভবিষ্যত কি?

আমেরিকার সাথে সম্পর্কে ফাটল, ইসরায়েলের ভবিষ্যত কি?

আন্তর্জাতিক ডেস্কদীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে পরিচিত ইসরায়েল। তবে বৈশ্বিক কৌশলগত অগ্রাধিকার, মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিবর্তন এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের সেই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, কেবল কূটনৈতিক আশ্বাসে আর আগের মতো সম্পর্ক ধরে রাখা সহজ হবে না।

আমেরিকা এবং ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অটুট সম্পর্কের ভিত্তি ধীরে ধীরে নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। গত কয়েক দশক ধরে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরায়েলপন্থী যে শক্তিশালী অবস্থান ছিল, তা এখন পরিবর্তনের মুখে। আর এই পরিবর্তন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা কেবল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সামাল দেওয়া ইসরায়েলের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে ইসরায়েলের কাছে পাঠানো আশ্বাসবাণীগুলো এখন অনেকটাই প্রথাগত বা আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। ‘সম্পর্ক অটুট’ কিংবা ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতি ইস্পাতকঠিন’—এ ধরনের বক্তব্য নিয়মিত শোনা গেলেও বাস্তবে ভূ-রাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মার্কিন নীতিতে ভিন্নতার ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে।

ইতিহাস বলছে, ১৯৭৩ সালের যুদ্ধের সময় থেকেই যখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, তখন শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন নিজের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ইসরায়েল বুঝেছে, দুই দেশের লক্ষ্য এক না হলে শেষ পর্যন্ত ছাড় দিতে হয় তাদেরই।

বর্তমান বাস্তবতায় এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত গুরুত্ব বাড়াচ্ছে, যেখানে তাদের প্রধান লক্ষ্য চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা করা। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক কৌশলগত পরিকল্পনাও ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের নীতিতেও পরিবর্তন আসছে। ইসরায়েলের ওপর একক নির্ভরতার বদলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য আরব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সমর্থনের প্রবণতা আগের তুলনায় কমেছে। যে দ্বিদলীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে কয়েক দশক ধরে এই সম্পর্ক টিকে ছিল, সেটিও এখন আগের মতো দৃঢ় নেই।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৮ সালে দুই দেশের মধ্যে নতুন সামরিক সহায়তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে এই পরিবর্তনের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ বিদেশি রাষ্ট্রকে সহায়তা হিসেবে দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক ও জনমনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173945