জিগাতলায় দুই নির্মাণাধীন ভবনে এডিসের মশার লার্ভা, ১ লাখ টাকা জরিমানা
রাজধানীর জিগাতলা এলাকায় ডেঙ্গুর বাহক এইডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় দুটি নির্মাণাধীন ভবনের মালিককে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জিগাতলা ও যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী খাল এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত এই জরিমানা করে।
ডিএসসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি’র সিদ্ধান্তে গঠিত টাস্কফোর্সের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে জিগাতলা এলাকার বিভিন্ন বসতবাড়ির ছাদ, বেইজমেন্ট, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করা হয়। এ সময় দুটি নির্মাণাধীন ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনে এইডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে দণ্ডবিধির ২৭০ ধারায় ভবন মালিকদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া ডেঙ্গুর লার্ভা শনাক্ত হওয়ায় ভবন দুটির প্রবেশপথে বিশেষ সতর্কতামূলক লিফলেট সাঁটিয়ে দেওয়া হয়।
পরিদর্শনের সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন সরকারি আবাসিক এলাকায় ডেঙ্গুর লার্ভা জন্মানোর উপযোগী পরিবেশ ও ময়লা-আবর্জনা জমে থাকতে দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের যত্রতত্র ময়লা না ফেলার আহ্বান জানানো হয়।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তি দেওয়া আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়; আমাদের উদ্দেশ্য হলো জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। আমরা চাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুক।”
তিনি জানান, জাতীয় কমিটির অধীনে টাস্কফোর্সের অভিযান রাজধানীজুড়ে অব্যাহত থাকবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংবাদকর্মীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
পরে প্রতিমন্ত্রী যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ কুতুবখালী খাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি খাল ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173927