সারাদেশে মাদকসেবী ৮২ লাখ,বগুড়ায় ৫০ হাজার

সারাদেশে মাদকসেবী ৮২ লাখ,বগুড়ায় ৫০ হাজার

স্টাফ রিপোর্টার: সারাদেশে দিন দিন মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ছে। এক্ষেত্রে বগুড়াও পিছিয়ে নেই। বগুড়াতেও বাড়ছে মাদক সেবনকারীর সংখ্যা। বর্তমানে দেশে ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাদক ব্যবহার করছেন। তবে এর মধ্যে বগুড়ায় কতজন মাদক সেবন করেন তার পরিসংখ্যান জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের হাতে নেই। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা,বগুড়ায় ৫০ হাজার মানুষ বিভিন্ন ধরণের মাদক সেবন করে থাকে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বগুড়ার উপপরিচালক মোহা: জিললুর রহমান গতকাল দৈনিক করতোয়াকে বলেন, সম্প্রতি মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ এর যৌথ উদ্যোগে একটি জরিপ করা হয়। এই দেশের ১৩ জেলার ২৬টি উপজেলার ৫ হাজার ৩৫১ জনের উপর জরিপ চালানো হয়। এতে জানা যায় দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদক সেবন করে। এরমধ্যে মাদাকাসক্ত নারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ, যা মোট শতাংশের ৬ দশমিক ৬। এর মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৩২ দশমিক এক শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বয়সী ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ ও ৪১ থেকে ৫০ বছর ২২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মাদক সেবন করে।
 
সেইসাথে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ মাধ্যমিক শাখার, ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ উচ্চ মাধ্যমিক ও ২২ দশমিক ৬ শতাংশ অনার্স বা ডিগ্রীর  শিক্ষার্থীরা মাদক সেবন করে।

এছাড়া জরিপে আরো উঠে আসে যে, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি গাঁজা সেবন করা হয়। ৮২ লাখ মাদক সেবীর মধ্যে ৬০ লাখ মানুষই গাঁজা সেবন করে। এরপরের অবস্থান ইয়াবা ও  ফেনসিডিলের। এদিকে দিন দিন মাদকসেবীর সংখা বাড়লেও বগুড়ায় নেই সরকারি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। 

শুধু আছে ডিএনসির লাইসেন্সপ্রাপ্ত ২০টি বেসরকারী মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। যা পর্যাপ্ত নয়। অনেক ভুক্তভোগী বলেন, এই সব বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য প্রচুর টাকা খরচ হয়। কোন কোন কেন্দ্রে মাসে ২০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়। যা অভিভাবকরা দিতে পারেননা। যে কারনে টাকার অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অনেকে মাদকসেবী নিতে পারেননা। ভুক্তভোগীরা বলেন,বিপুলসংখ্যক তরুণ ও যুবক মাদকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তাদের এখনই চিকিৎসা প্রয়োজন। 

এজন্য সরকারি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। যেখানে ফ্রি চিকিৎসা পাবে। ভুক্তভোগীরা সরকারের প্রতি বগুড়ায় সরকারি মাদক নিরাময়ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান।

এব্যাপারে ডিএনসি বগুড়া উপপরিচালক মোহা: জিললুর রহমান বলেন, বগুড়ায় সরকারি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনও সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, বগুড়ায় না থাকলেও দেশে বিভাগীয় পর্যায়ে মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে। দেশের ৮ বিভাগে সরকারি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে। তবে জেলা পর্যায়ে যখন সরকারি মাদক নিরাময়  ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মানের উদ্যোগ এখনও নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, সরকারি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মাদকাসক্তি রোগীর চিকিৎসার জন্য কোন ব্যয় করতে হয়না। সরকারি হাসপাতালের মতই ২০- ৩০ টাকার টিকিট কেটে চিকিৎসা পাওয়া যায়।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173921