বগুড়ায় ২ ঘণ্টার ঝুম বৃষ্টিতেও কাটেনি ভ্যাপসা গরম, উল্টো বেড়েছে অস্বস্তি
স্টাফ রিপোর্টার : তপ্ত দুপুরের পর হঠাৎ আকাশের মুখভার। এরপরই নামল স্বস্তির ঝুম বৃষ্টি। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বৃষ্টি হলে আবহাওয়া শীতল হওয়ার কথা, কিন্তু বগুড়াবাসীর ক্ষেত্রে ঘটল ঠিক উল্টোটা। আজ বৃহস্পতিবার বগুড়ায় প্রায় ২ ঘণ্টার টানা ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিতেও কাটেনি দীর্ঘদিনের ভ্যাপসা গরম, বরং বৃষ্টির পর ভ্যাপসা গরম ও গুমোট ভাব আরও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়ে জনজীবনকে ওষ্ঠাগত করে তুলেছে। আজ বগুড়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সকাল ৬ টায় এবং বিকেল ৬ টায় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯২ শতাংশ। যার কারণে মানুষ ঘামছেন দর দর কওে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, একে বলা চলে প্রকৃতির এক ধরণের ‘গ্রিনহাউস ইফেক্ট’ বা ‘স্টিম বাথ’ পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের তীব্র রোদে মাটির গভীর পর্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ছিল। ২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ওপরের অংশ কিছুটা ভিজলেও মাটির ভেতরের সেই তীব্র তাপ পুরোপুরি কমেনি। ফলে বৃষ্টির পানি যখন গরম মাটিতে পড়েছে, তা বাষ্পীভূত হয়ে ওপরে উঠে এসেছে। এর পাশাপাশি বৃষ্টির কারণে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বা আর্দ্রতা এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে গেছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে মানুষের শরীর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ঘাম ঝরিয়ে নিজেকে ঠান্ডা করতে পারে না। ফলে ঘরে-বাইরে সবখানেই এক দমবন্ধ করা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিকেলের দিকে বৃষ্টি শেষ হতেই শহরের সাতমাথা, স্টেশন রোড এবং চারমাথা এলাকায় মানুষের ঢল নামে। কিন্তু শীতল বাতাসের খোঁজে বের হওয়া মানুষগুলোকে পড়তে হয় তীব্র অস্বস্তিতে। শহরের নিউ মার্কেট এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভেবেছিলাম বৃষ্টি হলে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারব। কিন্তু কারেন্ট যাওয়ার পর ঘরের ভেতর যেন ফুটন্ত চুলার মতো গরম লাগছে। গা দিয়ে কেবল চটচটে ঘাম বের হচ্ছে। ফুটপাতের হকার থেকে শুরু করে রিকশাচালকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। বৃষ্টির পর বাতাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘরের চেয়ে বাইরের অস্বস্তি আরও বেশি বলে জানান অনেকে।
হুট করে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা এবং অতিরিক্ত ঘামের কারণে ঘরে ঘরে ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি এবং ডিহাইড্রেশনের (জলশূন্যতা) ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এই আবহাওয়ায় দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই ভ্যাপসা গরম থেকে বাঁচতে চিকিৎসকরা শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়ে যাওয়ায় লবণ-পানির ঘাটতি মেটাতে সাধারণ পানির পাশাপাশি খাবার স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করতে বলছেন। সেই সাথে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরা এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় বাইরের খোলা বা বাসি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
বগুড়ার আবহাওয়া অফিস সূত্র জানান, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় এই ভ্যাপসা গরম আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে। প্রকৃতির এই অদ্ভুত আচরণের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে আপাতত সচেতনতা এবং সতর্কতা ছাড়া নগরবাসীর সামনে আর কোনো সহজ পথ নেই।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173895