১১ দলীয় জোটের ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

১১ দলীয় জোটের ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী নৃশংসতার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

এই কর্মসূচিতে জুলাই স্মৃতির স্মরণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার রূপরেখা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মরণে ৩৬ দিনের কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে ১১ দলীয় জোট। এসব কর্মসূচির মূল দাবি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতি জনসচেতনতা তৈরি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনমত তৈরি করা ও বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করা। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ৪ জুলাই জেলা ও মহানগরীতে গণমিছিল, ২০ জুলাই নারীদের নিয়ে আলোচনা সভা, ২৩ থেকে ২৪ জুলাই দেশব্যাপী চিত্রাঙ্কন ও গ্রাফিতি আঁকা, ৩১ জুলাই মসজিদে ও ধর্মীয় উপসনালয়ে দোয়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রক্তাক্ত স্থানগুলোতে পৃথক পৃথক দিনে সমাবেশ, ৫ আগস্ট দেশের মহানগর জেলা ও উপজেলা পর্যাীয়ে সমাবেশ ও মিছিল, ৬ আগস্ট সারাদেশে মানববন্ধন এবং ৮ আগস্ট জাতীয় সেমিনার। সংবাদ সম্মেলনের আগে সকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিগত আওয়ামী লীগ আমলে নৃশংসতার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১–দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে নেতারা জানান, কর্মসূচিতে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ালীগ আমলে নৃশংসতা গুম, খুনের বিচার দাবি থাকবে। পাশাপাশি দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বর্তমান সরকারের ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার চেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বানও থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় শিথিলতার কারণে ফ্যাসিবাদের উত্থানের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, হামলার ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে ১১ দল দাঁড়ালে তাদের ওপর সরকারি দলের লোকজন হামলা চালাচ্ছে। তিনি ফ্যাসিবাদের পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গণ-অভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে হওয়া মামলার বিচার কিছুটা তরান্বিত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে পুরো বিচার পদ্ধতিকে দুর্বল করে দিয়েছে। বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এনসিপির ঢাকা মহানগরের উত্ততের নেতা আরিফুল ইসলাম আদিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন ও লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173866