ভাত না খেয়ে ১৩ বছরে কিশোর বাঁধন

ভাত না খেয়ে ১৩ বছরে কিশোর বাঁধন

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি : যেখানে আর দশজন ভাত খেয়ে বেঁচে আছেন, সেখানে জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত ভাত না খেয়েই স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন কিশোর বাঁধন।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার দুর্গম পল্লী চলনবিল অধ্যুষিত গ্রাম বেড়াবাড়ি। এই গ্রামের কৃষক বুদ্দু মোল্লার ছেলে বাঁধন ( ১৩)।  দুই বোনের এক ভাই বাঁধন। বড় বোন বর্ষা, ছোট বোন রুবি। বাঁধনের বাবা একজন দিনমজুর। বর্ষাকালে শ্যালো নৌকা চালিয়ে সংসার চালান। বাবা অসুস্থ হলে বাঁধন ও নৌকার হাল ধরেন।  বাঁধন বিয়াশ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ  শ্রেণির শিক্ষার্থী।

আর সবার মতো সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবেই তার জন্ম। জন্মের পর তার কোনো সমস্যাই ছিল না। সমস্যা শুরু হয় ‘মুখে ভাত’ খাওয়া নিয়ে। সবাই যখন তার মুখে প্রথমবার ভাত দিতে যায়, তখন সে মুখে ভাত দিলেই কান্নাকাটি শুরু করে দেয় এবং বমি করে ফেলে। এতে করে বিব্রত হয়ে পড়ে তার পরিবার। পরিবারের লোকজন ভাবে আরেকটু বড় হোক তখন ভাত খাওয়ানো যাবে। দুই বছর পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ খেয়েই বড় হয় সে। এরপর তাকে আবার ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা শুরু করে পরিবারের লোকজন। কিন্তু তখনো সে ভাত খেতে চায় না। জোর করে ভাত খাওয়াতে গেলেই বমি করে দেয়। যদিও পরিবারের কেউ আর তাকে ভাত খাওয়ানোর আর চেষ্টা করেনি। তবে ডাক্তার আর কবিরাজের কাছে গিয়েছেন কয়েকবার। কিন্তু কোনো চিকিৎসায় কাজ হয়নি।

বাঁধনের মা বলেন, আমরা ভাত খাই তখন সে রুটি, মুড়ি কিংবা শুধু সবজি খেয়ে থাকে। আমাদের সাথে ভাত খেতে বসে না। সকালে মুড়ি, দুপুরে সবজি দিয়ে রুটি, রাতে মুড়ি খেয়ে থাকে। মুড়ি না থাকলে না খেয়ে থাকতে হয়। তবুও সে ভাত খাবে না।বাঁধনের বাবা বুদ্দু জানান, তার ছেলে ছোট থেকেই এই সমস্যা। শুকনো খাবার খেয়ে থাকে। ভেজা খাবারে চাহিদা নাই। ভাতের আশেপাশে থাকে না। হয় তাকে আগে খেতে দিতে হয়। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে সে শুধু মাংস খায়।

বাঁধন বলেন, আমি ছোট থেকেই শুকনা খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। ভাত খেতে পারি না। ভাত খেলেই বমি হয়। কেনো হয় বলতে পারি না। বাবা-মা ভাত খাওয়ার সময় দূরে দূরে থাকি। আমি তাদের আগে কিংবা পরে মুড়ি, রুটি খেয়ে নিই।

বিয়াশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সে আমার স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। বিদ্যালয়ে তার উপস্থিতি কম। তার ভর্তি রোল ৬১, স্কুলে নিয়মিত হলে তার বিষয়ে আমাদের আলাদা কেয়ার থাকবে।

 

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173711