অনলাইন জুয়া ও ফিক্সিং রুখতে সংসদে নতুন বিল, সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছর

অনলাইন জুয়া ও ফিক্সিং রুখতে সংসদে নতুন বিল, সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছর

দেশে অনলাইন জুয়া, বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ সব ধরনের জুয়া কঠোরভাবে দমনে জাতীয় সংসদে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে ডিজিটাল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জুয়া পরিচালনা কিংবা অংশগ্রহণের জন্য অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। দেড় শতাব্দীরও বেশি পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ বাতিল করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় নতুন এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, স্পট ফিক্সিং, ম্যাচ ফিক্সিং, বাজি, পণসহ মোট ২৪টি বিষয়কে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ স্তরের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাধারণ জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারবেন।

অন্যদিকে অনলাইন বা দূরবর্তী মাধ্যমে পরিচালিত জুয়ার ক্ষেত্রে শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সবচেয়ে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে অনলাইন বেটিংয়ের ক্ষেত্রে। কেউ অনলাইন বেটিং পরিচালনা, প্রচার বা এতে অংশগ্রহণ করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারবেন।

এ ছাড়া ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধের জন্যও সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৮৬৭ সালের আইন দিয়ে বর্তমান সময়ের ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, অনলাইন বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া কিংবা ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতির মতো অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সময়োপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন আইন প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও মাঠপর্যায়ে আইনটি কার্যকরভাবে প্রয়োগের সুবিধার্থে নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছিল। পাশাপাশি সংবিধানেও জুয়া প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, বর্তমানে ভিপিএন, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচারের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি, জনশৃঙ্খলা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং তরুণ সমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এসব অপরাধ প্রতিরোধ, অর্থ পাচার রোধ এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই নতুন এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173683