জলবায়ু অর্থায়নে ব্র্যাক ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

জলবায়ু অর্থায়নে ব্র্যাক ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

দেশে জলবায়ু সহনশীলতায় টেকসই বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে ব্র্যাক ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী এক জলবায়ু অর্থায়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

‘আপস্কিলিং মাল্টিসেক্টরাল প্রফেশনালস অ্যাজ ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ক্যাটালিস্টস: নেভিগেটিং ক্লাইমেট সায়েন্স, পলিসিস অ্যান্ড ফাইন্যান্স’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় ১০টি ব্যাংক, ৬টি সরকারি মন্ত্রণালয়, সুশীল সমাজ ও শিক্ষাবিদরা। জলবায়ু-সহনশীল প্রকল্প তৈরি ও অর্থায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

১৪ জুন ২০২৬ ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রধান অতিথি হিসেবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্বের প্রয়োজন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন কেবল নীতিগত সহায়তার ওপরই নির্ভর করে না, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি এবং বিনিয়োগ-উপযোগী (ব্যাংকঅ্যাবল) প্রকল্প গড়ে তোলার ওপরও সমানভাবে নির্ভরশীল।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “জলবায়ু সহনশীলতার জন্য পুঁজির পাশাপাশি এমন পেশাদারদেরও প্রয়োজন, যারা জলবায়ুর অগ্রাধিকারগুলোকে বিনিয়োগে রূপান্তর করতে পারেন। একটি টেকসই ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।”

তিনি আরও বলেন, সাসটেইনেবিলিটি ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবসায়িক কৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার প্রমাণস্বরূপ ২০২৫ সালে আমাদের ব্যাংকের মোট পোর্টফোলিওর ৯ শতাংশ গ্রিন ফাইন্যান্স এবং ৮৩ শতাংশ সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স।

এই প্রশিক্ষণে জলবায়ু বিজ্ঞান, জাতীয় ও বৈশ্বিক নীতিগত কাঠামো, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ও অ্যাডাপ্টেশন ফান্ডসহ জলবায়ু অর্থায়নের বিভিন্ন কৌশল এবং জলবায়ু প্রকল্পগুলোর কাঠামো ও অর্থায়নের ব্যবহারিক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

গত ১৬ জুন ২০২৬ একটি সমাপনী অধিবেশনের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচিটি সম্পন্ন হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল এবং ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড চিফ রিস্ক অফিসার আহমেদ রশীদ জয়। সমাপনী আলোচনায় নীতিগত পরিবেশ জোরালো করা, জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট আর্থিক উপকরণের পরিধি বাড়ানো এবং সবুজ ও সহনশীল অবকাঠামোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে আরও বেশি প্রণোদনা তৈরির ওপর আলোকপাত করা হয়।

এই সক্ষমতা উন্নয়ন উদ্যোগটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা, পেশাদার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী অর্থায়ন সমাধানের মাধ্যমে জলবায়ু অর্থায়নকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার ও ব্র্যাক ব্যাংকের যৌথ প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। দেশে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এমন আয়োজন সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন সংশ্লিষ্টরা।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173619