চিত্রনায়ক সালমান শাহের লাশ তোলার অনুমতি বাতিল

চিত্রনায়ক সালমান শাহের লাশ তোলার অনুমতি বাতিল

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের পূর্বের আদেশ বাতিল করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম আদালতে লাশ উত্তোলনের অনুমতি বাতিলের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। এত দীর্ঘ সময় পর প্রাকৃতিক কারণে মরদেহের দেহাবশেষ পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। এছাড়া ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলনের সময় তা অতিমাত্রায় পচনশীল অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।

আবেদনে আরও বলা হয়, সালমান শাহকে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছে এবং তিনি সেখানেই সমাহিত আছেন। পুনরায় মরদেহ উত্তোলনের উদ্যোগ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এবং জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম ও তথ্যদাতা নীলা চৌধুরীর আপত্তিও রয়েছে।

এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। ২৪ মে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যুর মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। ওই নির্দেশের পরদিন রাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, তার মা লতিফা হক লুচি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অভিনেতা ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদকে আসামি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ১৯৯৭ সালে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের আবেদন করা হলে আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত শুরু করে।

সিআইডি ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে। একই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালত সেই প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। পরে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করা হয়। ২০০৩ সালে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয় এবং দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালে জমা দেওয়া বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনেও মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর নীলা চৌধুরী মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১৫ সালে তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করে। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ১২ জুন ওই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা করা হয়।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173550