বগুড়ার ফতেহ আলী ব্রিজ যেন হকার পুনর্বাসন কেন্দ্র

বগুড়ার ফতেহ আলী ব্রিজ যেন হকার পুনর্বাসন কেন্দ্র

স্টাফ রিপোর্টার : বহুল প্রতিক্ষার পর অবশেষে নির্ধারিত নকশার চেহারা পেতে শুরু করেছে ফতেহ আলী ব্রিজ। বগুড়ার করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজটি আর অল্প কিছুদিনের মধ্যে তার দৃষ্টিনন্দন চেহারা ফিরে পাবে। পূর্ব বগুড়া মানুষের শহরে প্রবেশের অন্যতম প্রধান ব্রিজ এটি।

তবে ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই নতুন দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ দখলদারদের অপতৎপরতা। ব্রিজটির দু’পাশে এ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরপরই তার বড় একটি অংশ অবৈধ দখলে চলে যায়। ব্রিজটির উভয়পাশে রাস্তা দখল করে যেসব ব্যবসায়ী দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছেন তারা নির্বিঘ্নে তাদের কারবার আরও বিস্তৃত পরিসরে চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাস্তবতা এমন ওই জায়গা মনে হয় তাদের জন্যই নির্ধারিত। মাঝে মাঝে জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশ উচ্ছেদ অভিযান চালালেও আবারও তা দখল হয়ে যায়। তার চেয়ে বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রিজটির পূর্বপাশে নির্মিতব্য এ্যাপ্রোচ সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অটোরিকশা স্ট্যান্ড। ব্রিজে ওঠার এ্যাপ্রোচ সড়কটিতে এমনভাবে অটোরিকশা স্ট্যান্ড করে রাখা হয়, দেখলে মনেই হবে অটোরিকশার বাজার।

মানুষের হেঁটে চলাচল করাও এখানে বেশ কষ্টকর। চালকদের বেপরোয়া গাড়ি রাখা ও স্ট্যান্ড করা এখানকার নিয়মিত এবং স্বাভাবিক ঘটনা। তারা এটিকে সড়কই মনে করেন না। কারণ, সড়ক দখল করে অটোরিকশা রাখার জন্য তারা প্রতিদিন চাঁদা দেন। আরো আছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম। এখান থেকে সারিয়াকান্দি ও চন্দনবাইশা রোডে আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ চার্জার অটোরিকশা চলাচল করে, যার সবগুলোই স্ট্যান্ড করে থাকে ব্রিজরে পূর্বপাশের এ্যাপ্রোচ সড়ক দখল করে।

এ্যাপ্রোচ সড়ক দখলের পর এবার দখলের তালিকায় যুক্ত হয়েছে মূল ব্রিজ। ব্রিজটির দুই পাশের ওয়াক ওয়েসহ গাড়ি চলাচলের মাঝের অংশও চলে গেছে অবৈধ দখলদারের হাতে। ওয়েক ওয়েতে-ফল, মাছ, সবজি, স্যান্ডেল, কাপড়, প্রসাধনীসহ এমন কোন পণ্য নেই, যা বিক্রি হয় না। ওয়াক ওয়েতে মানুষের হাঁটার কোন অংশই দখল অবশিষ্ট নেই। ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যের পসরার ইচ্ছেমত দোকান সাজিয়ে বেচাকেনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দখলের কারণে সাধারণ মানুষ গাড়ি চলাচলের মূল অংশ দিয়ে হেঁটে চলাচল করছেন, এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

ব্রিজ দিয়ে চলাচলকারী ক্ষুব্ধ মানুষের অভিযোগ, ব্রিজটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হতে এখনও বাকি। এরমধ্যে দুইপাশ ব্যবসায়ী ও চালকদের দখলের কারণে চলাচলা করায় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর ব্রিজের ওয়াক ওয়েও দখল। এটি ব্রিজ নয় যেন হকার পুনর্বাসনের জায়গা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ব্রিজতো হলো এবার দখলমুক্ত করবে কে? সাধারণ মানুষের দাবি, অবৈধ দখলদারদের স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে হবে। অভিযানে উচ্ছেদ তারপর আবার দখল, এমন ইুঁদর-বেড়াল খেলা আর তারা দেখতে চান না।

জানতে চাইলে বগুড়া জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ হোসেন বলেন, শহরজুড়ে ফুটপাত অবৈধ দখল মুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ব্রিজটির উভয়পাশে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয়, তবে তা আবার দখলে যাওয়া অনাকাঙ্খিত। আবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে বগুড়া সদর ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ (টিআই) প্রশাসন মো. সালেকুজ্জামান খান বলেন, বহুবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও স্থায়ীভাবে ব্রিজটির উভয়পাশ দখলমুক্ত রাখা যাচ্ছে না। জনবল কম থাকায় অটো চালকদের নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে এবার কঠোরভাবে এসব উচ্ছেদ ও অটো চালকেদের নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপের কথা জানান ট্রাফিক বিভাগের এই কর্মকর্তা।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173524