জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে মোলান হিন্দু পল্লীর পাশে ভাঙ্গা কালভার্ট এখন মরণ ফাঁদ
পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মোলান-নন্দীগ্রাম পাকা সড়কের মোলান হিন্দু পল্লীর পাশে একটি কালভার্ট ভেঙ্গে জনসাধারণের জন্য মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। ফলে ওই এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষসহ হাজার হাজার পথচারী প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। কালভার্টটি গত ৬/৭ মাস ধরে ভেঙ্গে পড়ে থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি এখনও।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই সড়কের মোলান বাজার থেকে সামান্য পূর্বে অবস্থিত কালভার্টটির অর্ধেকেরও বেশি ভেঙ্গে পড়ে গিয়ে রডগুলো বের হয়ে আছে। অন্য পাশে ভাঙা কালভার্টের উপর দিয়ে অটো, ভ্যান, ভটভটি, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে মাঝে মধ্যে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও যেকোনো মুহূর্তে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এছাড়াও চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকের উৎপাদিত ধান আনা-নেয়াতে চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে। ধান বোঝাই ভ্যান ৩/৪ কিলিামিটার দূর দিয়ে ঘুরে গোলায় তুলতে হচ্ছে। শুধু তাই নয় গ্রামের শিক্ষার্থীরাও স্কুল কলেজে যাচ্ছে ভাঙ্গা কালভার্টের উপর দিয়ে। দ্রুত কালভার্টটি নতুন করে না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় পবাহার গ্রামের বাসিন্দা অটোচালক আখিনুর ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগে ওই ভাঙা কালভার্টে ভ্যান নিয়ে যাওয়ার সময় পবাহার গ্রামের ইমরান আলী (৪০) নামের এক ভ্যানচালক পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হয়। তার হাত পা ভেঙে যাওয়ায় সে রাজশাহী হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মোলান গ্রামের অভিলাশ মাহাতো বলেন, ৭ মাসের অধিক এ কালভার্টটি একপাশে ধসে পড়ে আছে। গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন প্রতিদিন। অনেক সময় মনেই থাকেনা কালভার্টটি ভেঙ্গে গেছে। এটি এখন একটি মৃত্যু ফাঁদ। চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।
বীনধারা গ্রামের ইজিবাইক চালক জলিলসহ একাধিক পথচারী বলেন, কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় চলাচল অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় অনেকেই কালভার্ট ভাঙ্গা বুঝতে না পেরে দুর্ঘটনায় পড়েন। তারপরও ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেই গাড়ি চালকদের কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে যেতে হচ্ছে। তাছাড়া কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা কালভার্টের উপর দিয়ে যানবাহনে যাতায়াত করছে।
দীর্ঘদিন ভাঙা থাকায় কালভার্টের ধসে যাওয়া অংশটি ধীরে ধীরে বড় হয়ে যাচ্ছে। ফলে দিন দিন ঝুঁকি আরো বাড়ছে। মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাশিদা বেগম বলেন, কালভাটর্টি ভেঙ্গে যাওয়ার পর পরই সেটির ছবিসহ উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।
সড়কটি এলজিইডি'র অধিভুক্ত হলেও তিনি ইউনিয়ন পরিষদকে মেরামত করার কথা বলেছেন। উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন বলেন, অনেক আগেই কালভার্টটি রিপ্লেসমেন্টের জন্য ইস্টিমেট করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173513