ঢাবিতে এক সপ্তাহে তিনজন নারী হেনেস্তা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ শিক্ষার্থীদের

ঢাবিতে এক সপ্তাহে তিনজন নারী হেনেস্তা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ শিক্ষার্থীদের

ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক সপ্তাহের ব্যবধানে নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার তিনটি পৃথক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সর্বশেষ ঘটনায়, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এফবিএস (FBS) এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে অবস্থানরত কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে এক নারী শিক্ষার্থীকে এক রিকশাচালক অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তকে আটক করে আনা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনাটির পর তাকে সাময়িকভাবে মারধর করা হলেও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এর আগে টিএসসি থেকে হলে ফেরার পথে এক নারী শিক্ষার্থী বহিরাগত এক ব্যক্তির অশালীন আচরণের শিকার হন। শিক্ষার্থীর প্রতিবাদের মুখে অভিযুক্তকে আটক করে পরে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।

অন্যদিকে, গত পরশু রাতে ১০৩ ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থী রাস্তা পার হয়ে হলে ফেরার সময় মোটরসাইকেল আরোহী এক বহিরাগত তার দিকে অশোভন আচরণ করে এবং গায়ে থুথু নিক্ষেপ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে অভিযুক্তকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি।

শিক্ষার্থীদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা এসব ঘটনা কেবল প্রকাশিত অংশমাত্র। বাস্তবে আরও অনেক নারী শিক্ষার্থী বিভিন্ন ধরনের হেনস্তার শিকার হলেও অনেকেই অভিযোগ বা প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

এদিকে, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা-এর উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপে ১৫৭ জন নারী শিক্ষার্থী অংশ নেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই কোনো না কোনো সময় ক্যাম্পাসে হেনস্তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে টিএসসি থেকে শামসুন্নাহার হল পর্যন্ত পথকে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার, বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত টহল ব্যবস্থা এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের মতে, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173504