ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে ডাচদের নতুন ইতিহাস

ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে ডাচদের নতুন ইতিহাস

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ যেন হয়ে উঠেছে রেকর্ড ভাঙা-গড়ার মঞ্চ! একদিকে লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইনের মতো তারকারা ব্যক্তিগত অর্জনে নতুন অধ্যায় লিখছেন, অন্যদিকে দলগুলোও নিজেদের নাম তুলছে ইতিহাসের পাতায়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বড় এক মাইলফলকের মালিক হলো নেদারল্যান্ডস। সুইডেনকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নিজেদের করে নিয়েছে ডাচরা।

হিউস্টনের মাঠে গত রাতে ছিল কমলা রঙের উৎসব। গ্যালারি থেকে শুরু করে মাঠ-সবখানেই যেন নেদারল্যান্ডসের আধিপত্য। আর সেই উৎসবের পরিণতি হয়েছে ৫–১ গোলের বিশাল জয়ে। শুধু তিন পয়েন্ট নয়, এই জয় ডাচদের দিয়েছে ৬০ বছরের পুরোনো এক রেকর্ড ভাঙার গৌরব।

১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ছিল ব্রাজিলের। সেই সময় পেলের নেতৃত্বে সেলেসাওরা জিতেছিল দুটি বিশ্বকাপ। দীর্ঘদিন ধরে অক্ষত থাকা সেই রেকর্ড এবার ছাড়িয়ে গেছে নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপে তাদের টানা অপরাজিত ম্যাচ এখন ১৪টি।

তবে এই পরিসংখ্যানের মধ্যেও রয়েছে ফুটবলের এক অদ্ভুত বাস্তবতা। নেদারল্যান্ডসের এমন রেকর্ড শুনলে মনে হতে পারে, তারা হয়তো নিয়মিত বিশ্বকাপ জিতে চলেছে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন। বিশ্বকাপে ধারাবাহিকতা থাকলেও শিরোপা তাদের অধরা।

২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে সর্বশেষ হেরেছিল নেদারল্যান্ডস। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সেই আসরে স্পেন ১–০ গোলে হারিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল। এরপর ২০১৪ সালে ডাচরা তৃতীয় হয়, কিন্তু সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়। কারণ নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ড্র থাকায় পরিসংখ্যানে সেটি হার নয়, ড্র হিসেবে ধরা হয়।

২০২২ বিশ্বকাপেও একই প্রতিপক্ষের কাছে একই ধরনের হতাশা নিয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল নেদারল্যান্ডসকে। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২–২ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে হেরে যায় তারা। ফলে ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড থাকলেও বিশ্বকাপের শেষ হাসি হাসার অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি ডাচদের।

সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য মাঠের পারফরম্যান্সেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছে নেদারল্যান্ডস। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে তারা। মাত্র ৫ মিনিটে ব্রায়ান ব্রবি গোল করে এগিয়ে দেন দলকে। ১৭ মিনিটে আবারও গোল করে নিজের ও দলের ব্যবধান বাড়ান তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে কোডি গাকপো যোগ করেন আরও দুই গোল। ৪৭ থেকে ৫৪ মিনিটের মধ্যে মাত্র সাত মিনিটে দুটি গোল করে সুইডেনের ম্যাচে ফেরার পথ কঠিন করে দেন তিনি। সুইডেনের হয়ে একমাত্র গোলটি আসে অ্যান্থনি এলাঙ্গার কাছ থেকে। ৫৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নামার পর ৫৯ মিনিটে তিনি ব্যবধান কমান।

তবে শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসের জয় আটকানো যায়নি। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে ক্রিসেনসিও সামারভিল গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করেন।

এই জয়ের পরও অবশ্য নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়নি ডাচদের। ‘এফ’ গ্রুপে দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে তারা। সুইডেনের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট, জাপানের ১ এবং তিউনিসিয়া এখনো পয়েন্টশূন্য।

২০২৬ বিশ্বকাপ তাই শুধু শিরোপার লড়াই নয়, হয়ে উঠেছে রেকর্ডেরও এক মহাযাত্রা। আর সেই যাত্রায় নেদারল্যান্ডস এখন ইতিহাসের নতুন এক পাতায়!

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173374