৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙা গোলবন্যার বিশ্বকাপ

৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙা গোলবন্যার বিশ্বকাপ

২০২৬ বিশ্বকাপ গোলের বন্যায় ভাসছে। টুর্নামেন্টের মাত্র ৩৩তম ম্যাচেই ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছে এবারের আসর, যা ১৯৫৮ সালের পর সবচেয়ে দ্রুত সময়ে এই অর্জনের নজির। সর্বশেষ ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ২০ ম্যাচে ১০০ গোল হয়েছিল। এরপর আর কোনো বিশ্বকাপে এত দ্রুত শত গোলের দেখা মেলেনি!

শনিবার সুইডেনের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডসের ৫-১ গোলের জয়ে দলের তৃতীয় গোলটি করে এই রেকর্ডের অংশ হন কোডি গাকপো। এখন পর্যন্ত ৩৩ ম্যাচে ১০২টির বেশি গোল হয়েছে এবং ম্যাচপ্রতি গোলের গড় দাঁড়িয়েছে ৩.০৯। এই ধারা অব্যাহত থাকলে টুর্নামেন্ট শেষে মোট গোলসংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এত বেশি গোল হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে টুর্নামেন্টে ব্যবহৃত নতুন ‘ট্রিওন্ডা’ বল। অনেক গোলরক্ষকই বলের গতি ও বাঁক বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন। ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে সেনেগালের বিপক্ষে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক গোল করেন, যেখানে গোলরক্ষক বলের গতিপথ ঠিকমতো বুঝতেই পারেননি। প্রথম রাউন্ডেই ২২ গজের বেশি দূরত্ব থেকে পাঁচটি গোল হয়েছে, যা এই বিশ্বকাপের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান।

সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারি তিউনিসিয়ার বিপক্ষে দূরপাল্লার দুটি গোল করেছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার কনর মেটকাফ ও মরক্কোর ইসমাইল সাইবারিও দূর থেকে গোল করে নজর কেড়েছেন। সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জো হার্টের মতে, নতুন বলের আচরণ বোঝা গোলরক্ষকদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। সাবেক গোলরক্ষক পল রবিনসনও বলেছেন, কয়েকটি ঘটনায় বলের আচরণ ছিল অপ্রত্যাশিত, যা ভবিষ্যতেও নজরে রাখার মতো বিষয়।

গোল বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হতে পারে বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত ফরম্যাট। এবার ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে, ফলে তুলনামূলক দুর্বল দলগুলোর বিপক্ষে শক্তিশালী দলগুলো বেশি সুযোগ পাচ্ছে। যদিও অনেক নতুন দলও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। কেপ ভার্দে স্পেনকে রুখে দিয়েছে, ডিআর কঙ্গো ড্র করেছে পর্তুগালের সঙ্গে এবং কুরাসাও ইকুয়েডরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট অর্জন করেছে।

উত্তর আমেরিকার গরম আবহাওয়াও ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন পর্যন্ত হওয়া গোলের প্রায় ২৯ শতাংশ এসেছে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিট ও যোগ করা সময়ে। ক্লান্তির কারণে রক্ষণভাগে ভুল বাড়ছে, যার সুযোগ নিয়ে গোল করছে প্রতিপক্ষরা। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সুইডেনের কয়েকটি গোল এসেছে সরাসরি প্রতিপক্ষের ভুল থেকে।

এবারের বিশ্বকাপের আরেকটি নতুন সংযোজন হলো বাধ্যতামূলক পানিবিরতি। প্রতিটি অর্ধে একবার করে তিন মিনিটের এই বিরতি দর্শকদের একাংশের বিরক্তির কারণ হলেও কোচরা এটিকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।

বিরতির সময় খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দেওয়া, পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা এবং নতুন কৌশল প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন কোচরা। মরক্কোর বিপক্ষে পিছিয়ে থাকা ব্রাজিল এমন এক বিরতির পর ম্যাচে ফিরে এসে সমতা ফেরায়।

গোলবন্যার অন্যতম বড় কারণ হলো তারকা ফুটবলারদের দুর্দান্ত ফর্ম। লিওনেল মেসি ইতোমধ্যে হ্যাটট্রিক করেছেন, কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল পেয়েছেন, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র টানা দুই ম্যাচে গোল করেছেন। নরওয়ের আর্লিং হালান্ড, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনসহ আরও অনেক তারকা শুরু থেকেই নিজেদের সেরাটা দেখাচ্ছেন।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173372