বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্র্যাকের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত ২০২৫ সালে ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ১১০ কোটি টাকা লভ্যাংশ পেয়েছে ব্র্যাক
গত ১৮ জুন ২০২৬ ঢাকায় ‘দেশের মানুষের কল্যাণে ব্র্যাক পরিবার’ শীর্ষক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ব্র্যাক ব্যাংক ২০২৫ সালের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ থেকে ব্র্যাক-এর অংশ হস্তান্তর করার লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জন্য ব্র্যাক ব্যাংক ৩০% লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ১৫% নগদ এবং ১৫% স্টক লভ্যাংশ রয়েছে। এর ফলে ব্র্যাক লভ্যাংশ বাবদ মোট ১১০ কোটি টাকা লাভ করেছে।
এই অনুষ্ঠানটি ব্র্যাক এবং ব্র্যাক ব্যাংকের মধ্যকার বহু বছরের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ককে তুলে ধরে। এটি এমন একটি আদর্শ বিজনেস মডেল, যেখানে একটি সফল ব্যাংক ব্যবসা করে যে লাভ পায়, সেই লাভের টাকা সরাসরি বাংলাদেশে ব্র্যাকের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও সামাজিক সেবার পরিধি আরও বড় করতে ব্যবহৃত হয়।
ব্র্যাক ব্যাংক মূলত একটি লাভজনক এবং সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ব্র্যাকের সাথে যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখাই ব্যাংকটির মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম. হাসান বলেন, “সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি কেবল এটি নয় যে, আমরা কীভাবে ভ্যালু সৃষ্টি করছি— বরং এটিই বড় বিষয় যে, সেই সৃষ্ট ভ্যালু আমরা কীভাবে সবার সাথে ভাগ করে নিচ্ছি। আমাদের বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ ব্র্যাক পুনরায় এমন সব কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করে, যা সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে। এটি মহৎ উদ্দেশ্যে অর্থায়নের একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত— যেখানে ব্যবসায়িক সাফল্য শেষ পর্যন্ত সামাজিক উন্নয়নে রূপান্তর লাভ করে।”
ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “লভ্যাংশ হস্তান্তর কেবল একটি আর্থিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি এমন এক অনন্য অংশীদারিত্বের প্রতিফলন, যেখানে টেকসই ব্যবসায়িক সাফল্য সরাসরি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জীবিকা উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং জলবায়ু সহনশীলতার মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। আমরা যে ভ্যালু সৃষ্টি করি, তা শেষ পর্যন্ত সমাজের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়— এই উপলব্ধি আমাদের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের ‘মূল্যবোধনির্ভর ব্যাংকিং’ দর্শনের প্রতি আমাদের আরও দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ করে তোলে।”
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের পক্ষে প্রতীকী লভ্যাংশ গ্রহণ করেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। তিনি বলেন, “এই অংশীদারিত্ব প্রমাণ করে যে, একটি টেকসই ব্যবসা কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক উন্নয়নে সাহায্য করতে পারে। ব্র্যাক ব্যাংকের এই সাফল্য পুরো বাংলাদেশে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে ব্র্যাকের কাজকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। ব্র্যাকের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের একটি বড় অংশ হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সম্পদ জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আর সেই অর্থ দিয়েই আমরা সমাজের বিভিন্ন জটিল সমস্যা সমাধানের নানা কর্মসূচি ও নতুন নতুন উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করতে পারছি।”
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক, বিকাশ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্র্যাক পরিবারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173357