জয়পুরহাটের কালাইয়ে রাতের আধাঁরে কার্পেটিং পা ফেলতেই ওঠে যাচ্ছে পাথর

জয়পুরহাটের কালাইয়ে রাতের আধাঁরে কার্পেটিং পা ফেলতেই ওঠে যাচ্ছে পাথর

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্ত ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে রাতের আধাঁরে কার্পেটিং কাজ করছে ওই প্রতিষ্ঠান। নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে দিনের পরিবর্তে রাতে কাজ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এমন অনিয়মের ঘটনা উপজেলার পুনট-মোসলেমগঞ্জ ভায়া শান্তিনগর রাস্তায় ঘটেছে।

রাতে ঠিকাদারের লোকজন কার্পেটিংয়ের কাজ করছেন এমন অভিযোগ পেয়ে গত শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই রাস্তায় গিয়ে পাথর-পিচ বিছানোর দৃশ্য নজরে পড়েছে। এসময় দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী অফিসের কাউতে দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার ও প্রশস্ত করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছেন। রাস্তাটি চওড়ায় আগে ছিল ৫ মিটার, বর্তমানে তা বেড়ে হচ্ছে ৮.৭ মিটার। পুরো রাস্তার একপাশে খনন করা হয়েছে। গর্তে বালির সাথে ইটের খোয়া দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে আগের রাস্তার পরিত্যক্ত পাথর, ইটভাঙার রাবিশ ও মাটি। বর্তমানে পুরো রাস্তায় মাটির স্তর জমে রয়েছে।

সেগুলো পরিস্কার না করেই যৎসামান্য বিটুমিন ছিটিয়ে তার উপর ঠিকাদারের লোকজন রাতের আধাঁরে কার্পেটিংয়ের দায়সারা কাজ করছেন। সেখানে দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীকে দেখা যায় না। নিম্নমানের কাজ করায় এলাকাবাসী বাধা দিলে ঠিকাদারের লোকজন তাদের ওপর চড়াও এবং হুমকিও দেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রাস্তাটির সংস্কার ও প্রশস্ত কাজ তদারকির অনুরোধ করেন তারা।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুনট-মোসলেমগঞ্জ রাস্তার শান্তিনগর বাজার থেকে মোসলেমগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ৭.৩৮ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার এবং একই রাস্তার একপাশে চওড়া করতে নতুনভাবে ৩.৭ মিটার প্রশস্তকরণে গত বছরের ৩ জুন দরপত্র আহবান করা হয়। আর এই কাজে ব্যয় ধরা হয় ৮ কোটি ৩৫ লাখ ১৯৪ টাকা।

সে অনুযায়ী কাজটির দায়িত্ব পান নওগাঁর ইথেন এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কাজটি গত বছরের ২ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি অনেক দেরিতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। তবে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কাজটি শেষ করতে তাড়াহুড়া করছেন ঠিকাদার। এতেই অনেক অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে।

স্থানীয় থল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জোব্বার বলেন, শুরু থেকে এই রাস্তায় তিন নম্বর ইট দিয়ে কাজ করছে। সাথে পরিত্যাক্ত পাথর, রাবিশ ও মাটি দেওয়া হয়েছে। কাঁদা-মাটির উপরই বিটুমিন ছিটিয়ে কার্পেটিংয়ের কাজও করছে রাতের বেলায়। সকালবেলা সেগুলো আবার পা ফেলতেই তা ওঠে যাচ্ছে। এই কাজ দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী অফিসের কেউ থাকে না।

উদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা লাল্টু মিয়া বলেন, সুযোগবুঝে রাতের বেলায় যা খুশি তাই করছে ঠিকাদারের লোকজন। এখনই রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে, ছয় মাস পর এই রাস্তার কী যে অবস্থা হবে তা এখনই বোঝা যাচ্ছে। রাস্তা সংস্কারের নামে সরকারের টাকা লোপাট করার পরিকল্পনা করছে ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাস্তার কাজে নিয়োজিত একাধিক শ্রমিক বলেন, আসলে আমাদেরকে যখন, যেভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে সেভাবেই করছি। রাত-দিন বলতে কিছুই নেই, দ্রুত কাজ সম্পূর্ণ করায় এখন মূল কথা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইথেন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক নুর আলম বলেন, যেহেতু কৃষি এলাকা, আর ইরি-বোরো কাটার মৌসুম, কৃষকের কাজে বাধা না সৃষ্টি করতে রাতে কাজ করা হচ্ছে। তবে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। আসলে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা।

ইথেন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার রাসেল আহম্মেদ বলেন, আমিতো আসলে সাইটে থাকি না। যদি রাতের বেলায় কার্পেটিয়ের কাজ করে থাকে তা অবশ্যই ভুল করেছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আবু জাফর বলেন, প্রথমত রাতে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই।

বন্ধের দিন, আমার অনুপস্থিতিতে কাজ করার প্রশ্নই আসে না। শুনেছি তারা রাতে কাজ করেছে, পুনরায় ওঠানো হবে। উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, কার্পেটিংয়ের কাজ রাতে করছে তা শুনেছি। একটু অপেক্ষা করেন, কাজ বন্ধ করার ব্যবস্থা করছি।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173308