বগুড়ায় কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্রের ইনচার্জের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সেউজগাড়ীতে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কন্দাল ফসল গবেষণা উপ-কেন্দ্রের অফিস ইনচার্জ ড. মো. তৌহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউল করিম এই তদন্ত কাজ পরিচালনা করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ড. মো. তৌহিদুর রহমান বিগত প্রায় ৩ বছর ধরে এই উপ-কেন্দ্রে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায়, গত ১০ জুন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এর আগে ইনচার্জের অপকর্মের বিরুদ্ধে শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিলও করেছিলেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ইনচার্জ ড. তৌহিদুর রহমান, পিএসও হামিদুল হাসান এবং তার সহযোগী তারিকুল হাসানের যোগসাজশে প্রতি বছর ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে গবেষণার নামে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করছেন। এছাড়া গত নভেম্বর মাসে কোনো মৌসুমী শ্রমিক কাজ না করলেও, কাজ দেখিয়ে শ্রমিকদের নামে প্রায় দেড় লাখ টাকার ভুয়া বিল তুলে আত্মসাৎ করা হয়। শ্রমিকরা মূলত ডিসেম্বর মাস থেকে নিয়মিত কাজ শুরু করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ইনচার্জের নির্দেশে ইতিপূর্বে প্রায় ২০০ কেজি দেশি মিষ্টি আলু চুরির ঘটনা ঘটে, যা হাতেনাতে ধরা পড়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি ৪ থেকে ৫শ মণ আলু তিনি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লুকিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে সেগুলো বাইরে বিক্রি করতে না পেরে খামারের গোবর শেডে ফেলে পচানো হয়। এছাড়া খামারে উৎপাদিত ফলমূল ইনচার্জ নিজেই নিয়ে নেন এবং তাঁর দায়িত্বহীনতার কারণে খামারের পুকুরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে অভিযুক্ত হামিদুল হাসানসহ দুইজনকে বদলির সুপারিশ করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
এইসব অনিয়মের বিষয়ে বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশার কাছেও অভিযোগ জানানো হলে তিনি মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। এরই প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান এবং বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মেজবাউল করিম জানান, শনিবার (২০ জুন) তিনি সেউজগাড়ী কন্দাল ফসল গবেষণা উপ-কেন্দ্রে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের বক্তব্য শুনেছেন এবং বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173250