ব্রাজিলের ম্যাচে থাকবে রানীর শয়নকক্ষে পাওয়া ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল

ব্রাজিলের ম্যাচে থাকবে রানীর শয়নকক্ষে পাওয়া ৫০০ বছরের পুরোনো ফুটবল

ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য স্মারক এবার পাড়ি জমাচ্ছে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো ফুটবল হিসেবে স্বীকৃত প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো বলটি দীর্ঘদিন ধরে স্কটল্যান্ডের স্টার্লিং শহরের স্মিথ আর্ট গ্যালারি অ্যান্ড মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ছিল।

ঐতিহাসিক এই ফুটবলটি প্রথম আবিষ্কৃত হয় স্টার্লিং দুর্গের রানীর শয়নকক্ষে। ওক কাঠের প্যানেলিংয়ের আড়ালে, ছাদের কড়িকাঠের মধ্যে আটকে থাকা অবস্থায় বলটি খুঁজে পাওয়া যায়। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, চামড়ার তৈরি বলটি ১৫৪০ থেকে ১৫৭০ সালের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে তৈরি হয়েছিল।

আজ আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে বলটি। মায়ামির কোরাল গেবলস মিউজিয়ামে আয়োজিত ‘ডিপ্লোম্যাসি অ্যান্ড দ্য বিউটিফুল গেম: ফ্রম স্কটল্যান্ড টু ব্রাজিল টু হাইতি’ শীর্ষক প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এটি সেখানে প্রদর্শিত হবে।

শুধু প্রদর্শনীতেই নয়, আগামী ২৪ জুন ব্রাজিলের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবে এই ফুটবল। ফলে ফুটবল ইতিহাসের প্রায় পাঁচ শতকের দীর্ঘ যাত্রায় প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচ সরাসরি ‘দেখার’ সুযোগ পাবে বলটি।

স্মিথ আর্ট গ্যালারি অ্যান্ড মিউজিয়ামের পরিচালক ক্যারোলিন ম্যাথার্স এ সফরকে প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ম্যাথার্স বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো এই ফুটবলটি স্টার্লিংয়ের নিজস্ব সম্পদ। এটি যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের পাশে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে—এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি মনে করিয়ে দেয় যে সেন্ট্রাল স্কটল্যান্ডের একটি ছোট এবং বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার থাকা জাদুঘরেও আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। বিশ্বমঞ্চে আমাদের দেশের গল্প তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে আমরা আনন্দিত।’

এই বলটি তৈরি করা হয়েছিল চামড়ার মোটা প্যানেল সেলাই করে। বলটির বাইরের অংশকে আরও মসৃণ ও বায়ুগতীয় করতে সেলাইয়ের পর সেটি উল্টে নেওয়া হয়েছিল। আর ভেতরে ব্লাডার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল শুকরের মূত্রথলি।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পাওয়া এই ফুটবল স্কটল্যান্ডের ইতিহাসের ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনের অন্যতম হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। স্মিথ মিউজিয়ামের ৪০ হাজারের বেশি শিল্পকর্ম ও ঐতিহাসিক সংগ্রহের মধ্যে এটিই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনী।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173154