বগুড়ায় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বন্ধ ২ মাস ধরে, নামেই সিটি কর্পোরেশন, সেবা মিলছে পুরোনো সার্ভারে

বগুড়ায় জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বন্ধ ২ মাস ধরে, নামেই সিটি কর্পোরেশন, সেবা মিলছে পুরোনো সার্ভারে

শহর প্রতিনিধি (বগুড়া) : ঘোষণা হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের, তবে ডিজিটাল সিস্টেমে এখনো রয়ে গেছে পুরোনো পৌরসভার কাঠামো। এই সার্ভার জটিলতায় বগুড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জরুরি নাগরিক সেবা। গত প্রায় দুই মাস ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে অনলাইন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির মতো অতিজরুরি কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভুক্তভোগীদের একজন আমিনুর রহমান, পেশায় একজন ব্যাংকার। প্রতিদিন বগুড়া থেকে পার্শ্ববর্তী জেলা শহরে যাতায়াত করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু ছেলের জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য তার জরুরি ভিত্তিতে একটি অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নবসৃষ্ট বগুড়া সিটি কর্পোরেশন ভবনে ঘুরেও তিনি ছেলের জন্ম নিবন্ধনের জন্য অনলাইনে আবেদনই করতে পারেননি।

আক্ষেপ প্রকাশ করে আমিনুর রহমান বলেন, “জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের জন্য অনলাইন জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক। অথচ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে ঘুরেও আবেদন করতে পারছি না। কর্তৃপক্ষ বলছে, পৌরসভার ডাটাবেজ এখনো সিটি কর্পোরেশনে আপগ্রেড করা হয়নি।

সরেজমিনে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন ভবনে গিয়ে এমন আরও অনেক ভুক্তভোগীর দেখা মেলে, যারা এই প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করতে পারছেন না। জানা গেছে, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়াকে দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশন হিসেবে ঘোষণা ও উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার বগুড়া সফরকালে তিনি পৌর ভবনে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক প্রশাসনিক রূপান্তর সম্পন্ন করেন। এরপর থেকে শহরবাসী নিজেদের সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন এবং নাগরিকত্ব সনদের ছাপা প্রত্যয়নেও পরিবর্তন এসেছে।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী নতুন প্রশাসক এসেছেন, হোল্ডিং ট্যাক্স বা খাজনা আদায়ও হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের নিয়মে ও ছাপা ফরমে। তবে পরিবর্তন আসেনি অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের সার্ভারে।

এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদন করতে গেলেও সার্ভারে এখনও কেবল ‘বগুড়া পৌরসভা’ অপশনটিই ভেসে উঠছে। বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম বলেন, সার্ভার আপগ্রেডেশনের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকেই নাগরিকরা এই সেবা পুরোদমে পাবেন। বর্তমানে নাগরিক সনদ সিটি কর্পোরেশনের ফরম্যাটেই দেওয়া হচ্ছে।

তবে হোল্ডিং ট্যাক্স ও খাজনাসহ অন্যান্য রশিদ আগের ছাপানো থাকায় আপাতত সিলমোহর ব্যবহার করে নাগরিক সেবা দেওয়া হচ্ছে। সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা কেএম আবদুর রব বলেন, ডাটাবেজে ‘বগুড়া সিটি কর্পোরেশন তথ্যটি অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে। দ্রুতই এটি সম্পন্ন হবে। আপাতত নাগরিকরা ‘বগুড়া পৌরসভা’র তথ্য দিয়েই আবেদন করতে পারছেন, এতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

বগুড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের উপপরিচালক মানিক চন্দ্র দেবনাথ জানান, পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের তথ্য থাকা বাধ্যতামূলক নয়। নাগরিকরা আগের নিয়মেই আবেদন করে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারছেন। ফলে পাসপোর্ট নিয়ে আপাতত কোনো জটিলতা নেই।”

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/173057