৫২ বছর পর বিশ্বকাপে কঙ্গোর গোল, সমতায় থেকে বিরতিতে পর্তুগাল

৫২ বছর পর বিশ্বকাপে কঙ্গোর গোল, সমতায় থেকে বিরতিতে পর্তুগাল

স্পোর্টস ডেস্ক : শুরুটা হয়েছিল পর্তুগালের দাপটে। বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণের চেষ্টা, দ্রুত গোল, সব মিলিয়ে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচটা সহজ পথেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল।

কিন্তু প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে বদলে গেল চিত্র। ইয়োয়ান উইসার দারুণ হেডে সমতায় ফিরল ডিআর কঙ্গো।
১-১ স্কোরলাইন নিয়ে বিরতিতে দুদল।

হিউস্টনে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’র ম্যাচে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

এতে লিওনেল মেসির সঙ্গে রেকর্ড ভাগ করলেন পর্তুগালের ৪১ বছর বয়সী অধিনায়ক। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড ফুটবলার হিসেবে ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।

রেকর্ডের রাতে মাঠের শুরুটা অবশ্য রোনালদোর নয়, জোয়াও নেভেসের। মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে পেদ্রো নেতোর ক্রস থেকে গ্ল্যান্সিং হেডে বল জালে পাঠান পিএসজির এই মিডফিল্ডার। বল যায় দূরের কোণে। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।

এই গোলের মাধ্যমে আরও একটি মাইলফলক ছুঁয়েছেন নেভেস। পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বয়সী সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে ম্যাচ শুরু করার পর তিনি হয়ে যান দেশটির তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতা। তার ওপরে আছেন শুধু রোনালদো ও গনসালো রামোস।

গোলের পরও বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে পর্তুগাল। প্রথমার্ধে একসময় তাদের দখলে ছিল ৮০ শতাংশ বল। তবে এত দখল নিয়েও খুব বেশি পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি রবের্তো মার্তিনেজের দল। ৩০ মিনিটে জোয়াও কানসেলোর নিচু ক্রসে ছয় গজ বক্সে বলের দিকে ছুটেছিলেন রোনালদো, কিন্তু বলটা একটু বেশি সামনে চলে যায়।

১৮ মিনিটে নুনো মেন্দেসের আক্রমণ থেকে সুযোগ তৈরি হয়েছিল পর্তুগালের। তার চেষ্টায় ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমবাসিকে অস্বস্তিতে পড়তে হয়। ফিরতি বলে ব্রুনো ফার্নান্দেস নিচু ক্রস পাঠান, বের্নার্দো সিলভা স্লাইড করেও বল স্পর্শ করতে পারেননি। এর আগে ১৩ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন বের্নার্দো। এদো কায়েম্বেকে দেরিতে ট্যাকল করায় তাকে সতর্ক করেন রেফারি। 

ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে ডিআর কঙ্গো। শুরুতে নিচে নেমে রক্ষণ সামলালেও পরে একটু একটু করে ওপরে উঠতে থাকে তারা। ৩৫ মিনিটে দূর থেকে শট নেন কায়েম্বে। সেটি খুব বেশি বিপজ্জনক ছিল না, তবে ডিআর কঙ্গোর প্রথম লক্ষ্যে থাকা শট ছিল সেটি।

৩৮ মিনিটের পর তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়তে থাকে। উইসা সতীর্থদের ওপরে উঠে খেলতে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। পর্তুগালও শেষ ১৫ মিনিটে আক্রমণে আগের মতো ধার দেখাতে পারেনি। বল পায়ে থাকলেও গোলের সামনে তাদের উপস্থিতি কমে যায়।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আসে ডিআর কঙ্গোর কাঙ্ক্ষিত গোল। ছোট করে নেওয়া কর্নারের পর বক্সে বল উঠলে পর্তুগালের রক্ষণে ভুল হয়। ব্রুনো ফার্নান্দেস সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেন, তমাস আরাউজোও উইসাকে ফাঁকা রেখে দেন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত হেডে বল পাঠান ওপরের বাঁ কোণে।

এটি ডিআর কঙ্গোর ৫২ বছরের মধ্যে প্রথম বিশ্বকাপ গোল। আর সেই গোলেই বিরতির আগে ম্যাচে ফেরে সেবাস্তিয়েন দেশাব্রের দল।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/172960