৭ গোলের বিশাল জয়ের পর জার্মানিকে তাড়া করছে নতুন এক ভয়!
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয় পেলেও স্বস্তিতে নেই জার্মান শিবির। বরং মাঠের বাইরে নতুন এক উদ্বেগ ঘিরে ধরেছে দলকে। ম্যানুয়েল ন্যুয়ের, জশুয়া কিমিখ, কাই হাভার্টজদের মতো তারকারা এখন এক অপ্রত্যাশিত আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন, আর তা হলো বিষধর সাপের উপস্থিতি।
জার্মান অধিনায়ক জশুয়া কিমিখ বলেন, ‘জার্মানিতে আপনি কৌশল, চোট আর পরবর্তী প্রতিপক্ষ নিয়ে চিন্তা করেন। এখানে আপনাকে ভাবতে হচ্ছে ঘাসের মধ্যে কী লুকিয়ে আছে তা নিয়েও।’ তার এই মন্তব্যেই উঠে এসেছে বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে এক অচেনা আতঙ্ক, যেখানে ফুটবলের লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রকৃতির ঝুঁকিও এখন বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিশ্বকাপে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ে দলের ক্যাম্প ঘিরে স্থানীয় বন্যপ্রাণী বিশেষ করে বিষধর সাপের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনা ও ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প এলাকায় এ ধরনের ঘটনা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মান দল নর্থ ক্যারোলাইনার উইনস্টন-সালেমে অনুশীলন ও আবাসনের সময় একটি কপারহেড প্রজাতির বিষধর সাপের মুখোমুখি হয়। একই সময়ে সুইস দল সান ডিয়েগো ক্যাম্পের একটি অংশকে সতর্কতামূলকভাবে ‘সাপের এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত করে। নরওয়ে দলও একই ধরনের পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি স্বীকার করে দলগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে সাপ দেখা গেলে সেটিকে বিরক্ত না করতে এবং সঙ্গে সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। কিমিখ আরও বলেন, ‘আমরা গতকাল একটি সাপ দেখেছি, আমাদের বলা হয়েছে এটি বিষধর। কামড়ালে হাসপাতালে যেতে হবে। আমি মনে করি না এতে মৃত্যু হবে, তবে এটি অবশ্যই বিপজ্জনক।’
তিনি জানান, এই ঘটনার পর থেকে খেলোয়াড়রা চলাফেরায় অনেক বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছেন। ‘যদি এমন সাপের ওপর পা পড়ে, তাহলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। জার্মানিতে আমি মনে করি না এত বিপজ্জনক প্রাণী আছে,’ যোগ করেন তিনি।
জার্মানি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সাপ থাকলেও দুটি প্রজাতি বিষধর বলে জানা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প এলাকায় দেখা যাওয়া কপারহেড প্রজাতির সাপ স্থানীয়ভাবে তুলনামূলকভাবে বেশি বিস্তৃত।
এদিকে নরওয়ে দলও একই অঞ্চলে অবস্থান করছে। গ্রিনসবরো শহরের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে কপারহেড সাপ সাধারণভাবে দেখা যায়। এই খবরের পর নরওয়ে অধিনায়কও অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, ‘এটা শুনে আমি একেবারেই খুশি নই।’
সব মিলিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সে দাপট দেখালেও, জার্মানি ও তাদের ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখন প্রাকৃতিক পরিবেশজনিত এক অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মাঝেই এই সাপ আতঙ্ক তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
এ পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলেও, সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে দলগুলো। ফুটবলের উত্তেজনার পাশাপাশি এখন তাদের মনোযোগ ঘুরছে মাঠের বাইরের অদৃশ্য বিপদের দিকেও।
পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/172906