গাজীপুরে হাইওয়ে রোডে ময়লার ভাগাড় 

গাজীপুরে হাইওয়ে রোডে ময়লার ভাগাড় 

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি :  গাজীপুরে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ যেনো দিনদিন বেড়েই চলেছে। 

গাজীপুর চৌরাস্তা,  রাজেন্দ্রপুর, সালনা, মাওনা উড়াল সেতুর নিচে, জৈনা, নয়নপুর, এমসি বাজার সহ ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় ময়লার স্তূপ দেখা যায়।  এসব অস্থায়ী ময়লার ভাগাড় যেমন পরিবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে, তেমনি দূরপাল্লার দ্রুতগামী যানবাহনগুলি যেককোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
 
যুদিও প্রশাসনে হস্তক্ষেপে রাজেন্দ্রপুর হাইওয়ে রোডের পাশে থাকা ময়লার ভাগাড় অস্থায়ী স্থানান্তর হলেও কমেনি অন্যান্য জায়গার ময়লা।   

১৬ জুন সরেজমিনে দেখা যায়, এমসি বাজার এলাকা হাইওয়ে রোডের অর্ধেক জায়গা বর্জ্যকর্মীদের দখলে।

স্থানীয়দের ধারণা, মাওনা উড়াল সেতু কিছু অংশ শ্রীপুর পৌরসভা, আর কিছু অংশ তেলিহাটি ইউনিয়নে হওয়ায় ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পরে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি না থাকায়, বাসাবাড়ির ময়লা  ফুটপাতে ও উড়াল সেতুর নিচে দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে।  

নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম দৈনিক করতোয়াকে জানান- মহাসড়কে ময়লা ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ময়লা বিভিন্ন জায়গা ছড়িয়ে যাচ্ছে। সড়কের পাশে বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। মহাসড়কের পাশে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সময়ে ডাম্পিং ষ্টেশন স্থাপন করাই একমাত্র সমাধান। 
পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়েছে । 

পরিবেশকর্মী ও রসায়নবিদ সাঈদ চৌধুরী দৈনিক করতোয়ায় এক সাক্ষাৎকারে বলেন-

জনপ্রতি ময়লা যেভাবে বাড়ছে এবং সাথে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বর্জ্যের যে বৃদ্ধি তা সত্যিই উদ্বেগজনক । শ্রীপুরে অনেকগুলো ময়লা সংগ্রহের জায়গা, উন্নতমানের বর্জ্য আহোরণের ট্রাক এবং লোকবল লাগবে । সাথে সাথে রিসাইকেল প্লান্টও প্রয়োজন । বিগত সময়ের বাজেটগুলোরও কোনো কাজে আসেনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় । সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের জায়গা বিবেচনায় এনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করা প্রয়োজন । মানুষ এই অসুস্থ পরিবেশ চায় না, প্রয়োজনে ইন্ডাস্ট্রির মালিক, আমরা যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করছি তারা এবং এমপি মহোদয় সহ সকলকে নিয়ে বসে একটি রোডম্যাপ তৈরী করে আগানোর দাবী রাখছি । 

এমদাদুল হক মিলন এক সাক্ষাৎকারে বলেন  ময়লা কর্মীরা হয়তো জানেনা হাইওয়ে রোডে ময়লা রাখা কতটা বিপদজনক। এসব ময়লা স্তুপের পাশদিয়ে মুখ চেঁপে যেতে হয়, এসনকি এসব বর্জ্যেররকারণে যেকোনো সময় সড়ক  দুর্ঘটনা হতে পারে । এমপি মহোদয় ও প্রশসাসনের কাছে বিনয়ের সাথে বলছি এসব ময়লা সরিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করুন। 

স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বাসাবাড়ির ময়লা বহনকারী কর্মীরা  ভোরবেলা তারা রাস্তায় বর্জ্য ফেলে, যে দুর্ভোগ সৃষ্টি করে, তা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।  প্রশাসন যদি  বর্জ্য কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে রাস্তায় বর্জ্য ফেলা বন্ধ হতে পারে।
 
সম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু  সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে  এসব বর্জ্য সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা চলছে। 

পরিবেশবিদগণ মনে করেন, সরকার যদি সময়মতো বর্জ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশের ভারসাম্য হারানোর পথে যাচ্ছে।

পোস্ট লিংক : https://www.dailykaratoa.com/article/172801